আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করেছেন বাংলাদেশের ডানহাতি পেসার হাসান মাহমুদ। টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের প্রথম পেসার হিসেবে হ্যাটট্রিক করার কৃতিত্ব অর্জন করেছেন ২৪ বছর বয়সী এই বোলার। টেস্ট ক্রিকেটের দীর্ঘ ইতিহাসে এটি ৫০তম হ্যাটট্রিক এবং চলতি বছরের প্রথম হ্যাটট্রিক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে বাংলাদেশের হয়ে টেস্টে হ্যাটট্রিক করেছিলেন অলক কাপালি, ২০০৩ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে, এবং সোহাগ গাজী, ২০১৩ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। এবার তাঁদের পাশে নিজের নাম যুক্ত করলেন হাসান।
দিনের শুরুতে দ্বিতীয় নতুন বল হাতে নিয়ে আফগানিস্তানের ব্যাটারদের চাপে ফেলেন বাংলাদেশের পেসার ইবাদত হোসেন ও হাসান মাহমুদ। দিনের প্রথম সাফল্য এনে দেন ইবাদত। তাঁর অফ স্টাম্পের চ্যানেলে করা নিখুঁত সুইঙ্গারে ইকরামের ব্যাট ও প্যাডের ফাঁক গলে বল সরাসরি স্টাম্পে আঘাত করে।
এরপরই শুরু হয় হাসান মাহমুদের দুর্দান্ত বোলিং। ইনিংসের ৮৩তম ওভারের তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম বলে পরপর তিন আফগান ব্যাটারকে আউট করে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন তিনি। তাঁর ধারালো সুইং ও ইনসুইঙ্গারের সামনে টিকতে পারেননি ইসমত আলম। ব্যাক অব আ লেংথ থেকে ভেতরে ঢোকা নিচু বলে বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরেন তিনি।
এরপর নতুন ব্যাটার কায়েসের ব্যাটের কানায় লেগে বল স্লিপের দিকে গেলে উইকেটরক্ষক লিটন দাস ডান দিকে ঝাঁপিয়ে অসাধারণ ক্যাচ নেন। হ্যাটট্রিকের সুযোগ তৈরি হতেই উইকেটে আসেন জিয়া-উর-রেহমান। তাঁকে অফ স্টাম্পের বাইরে সুইং করিয়ে ড্রাইভ খেলতে বাধ্য করেন হাসান এবং এলবিডব্লিউর জোরালো আবেদন জানান। অন-ফিল্ড আম্পায়ার প্রথমে সাড়া না দিলেও বাংলাদেশ দল রিভিউ নেয়। রিপ্লেতে বল-ট্র্যাকিংয়ে দেখা যায়, বলটি অফ স্টাম্পের ওপরের অংশে আঘাত করত। আম্পায়ার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতেই হ্যাটট্রিকের আনন্দে মেতে ওঠেন হাসান ও তাঁর সতীর্থরা।
হাসান মাহমুদের হ্যাটট্রিক এবং ইবাদত হোসেনের বোলিংয়ে ৮৩ ওভার শেষে ৮ উইকেট হারিয়ে আফগানিস্তানের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২২০ রান। প্রথম সেশনেই প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দিকে নেওয়ার সুযোগ তৈরি করে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে হাসানের এই অর্জন পেস বোলিংয়ের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক।



