বাংলাদেশের জন্য ১ লাখ টন চাল সরবরাহ করতে আন্তর্জাতিক টেন্ডার আহ্বান করেছে পাকিস্তানের ট্রেডিং করপোরেশন অব পাকিস্তান (টিসিপি)। পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০ নভেম্বর প্রকাশিত এই টেন্ডারের আওতায় ২৮ নভেম্বর বেলা সাড়ে ১১টার মধ্যে মূল্য প্রস্তাব জমা দিতে হবে। করাচি বন্দর দিয়ে ব্রেক-বাল্ক কার্গোর মাধ্যমে বাংলাদেশে রপ্তানিযোগ্য ১ লাখ টন লং গ্রেইন সাদা চাল ক্রয়ের জন্য কোম্পানি, পার্টনারশিপ বা ব্যক্তিগত ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে আবেদন চাওয়া হয়েছে।
টেন্ডারের শর্তানুযায়ী, মূল্য প্রস্তাব জমা দেওয়ার পর তা ২১ কার্যদিবস পর্যন্ত বৈধ থাকতে হবে এবং চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার ৪৫ দিনের মধ্যে রপ্তানির উপযোগী করে চাল প্রস্তুত করতে হবে। ন্যূনতম বিড ২৫ হাজার টন এবং এর গুণিতকে সর্বোচ্চ ১ লাখ টন পর্যন্ত প্রস্তাব দেওয়া যাবে। চাল অবশ্যই সর্বশেষ মৌসুমের উৎপাদিত হতে হবে এবং কোনোভাবেই দুর্গন্ধ, ছত্রাক, বিষাক্ত আগাছা, পোকামাকড় বা সংক্রমণের চিহ্ন থাকা চলবে না।
রয়টার্স জানিয়েছে, বাংলাদেশের আমদানি তালিকায় পাকিস্তানি চাল যুক্ত করার সম্ভাব্য পদক্ষেপ হিসেবে এই টেন্ডারকে দেখা হচ্ছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের আগের কিছু চাহিদার ক্ষেত্রে ভারতীয় উৎসের চাল ব্যবহারের সম্ভাবনাও রয়েছে। মূল্য স্থিতিশীল রাখতে বাংলাদেশও একই দিনে আরও একটি চাল আমদানির টেন্ডার ঘোষণা করেছে, যা সাম্প্রতিক কয়েক সপ্তাহ ধরে ধারাবাহিকভাবে চালিয়ে যাওয়া প্রচেষ্টার অংশ।
এর আগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান প্রথমবারের মতো সরকার-টু-সরকার (জিটুজি) ভিত্তিতে চাল বাণিজ্য শুরু করে, যার আওতায় বাংলাদেশ ৫০ হাজার টন চাল আমদানি করে। গত মাসে অনুষ্ঠিত নবম যৌথ অর্থনৈতিক কমিশনের (জেইসি) বৈঠকে পাকিস্তান প্রস্তাব দেয়—বাংলাদেশ চাইলে আঞ্চলিক দেশগুলোর (চীন ও মধ্য এশিয়া) সঙ্গে বাণিজ্যের জন্য করাচি বন্দরকে গেটওয়ে হিসেবে ব্যবহার করতে পারে।
ডনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে পাকিস্তানের চাল রপ্তানি ২৮ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। রপ্তানিকারকদের মতে, ভারত ২০২৪ সালে পুনরায় চাল রপ্তানি শুরু করায় এবং বাসমতির ন্যূনতম রপ্তানি মূল্য প্রত্যাহার ও শূন্য শুল্ক আরোপ করায় পাকিস্তান প্রতিযোগিতায় চাপের মুখে পড়েছে। তবুও পাকিস্তান সরাসরি মূল্যযুদ্ধে না গিয়ে উচ্চমানের বাজারে তাদের অবস্থান ধরে রেখেছে। ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের মার্চ পর্যন্ত তারা তাদের প্রিমিয়াম বাজার শেয়ার স্থিতিশীল রাখতে সক্ষম হয়। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ২০২৪ সালের আগস্টে ভারতীয় চালের উপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করায় পাকিস্তানের মার্কিন বাজারে শেয়ার বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।
গ্লোবাল ট্রেড প্ল্যাটফর্ম ভলজার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৪ সালের অক্টোবর পর্যন্ত পাকিস্তানের বাসমতি চাল রপ্তানির ২৪ শতাংশ গেছে যুক্তরাষ্ট্রে।



