পুরুষদের প্রজননস্বাস্থ্য বা শুক্রাণুর সংখ্যা কমে যাওয়ার বিষয়টি আমাদের সমাজে অনেকটা ‘ট্যাবু’ হিসেবে রয়ে গেছে। অথচ চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ‘অলিগোস্পার্মিয়া’ বা লো স্পার্ম কাউন্ট বর্তমান সময়ে পুরুষদের অন্যতম প্রধান স্বাস্থ্যঝুঁকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। হরমোনের ভারসাম্যহীনতা বা শারীরিক ত্রুটি ছাড়াও আমাদের দৈনন্দিন কিছু অসচেতন অভ্যাস নীরবে শুক্রাণুর সংখ্যা কমিয়ে দিচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে বন্ধ্যত্বের কারণ হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মূলত ৫টি অভ্যাস পুরুষদের প্রজননক্ষমতাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। প্রথমত, পেশি বৃদ্ধির জন্য অ্যানাবলিক স্টেরয়েড গ্রহণ এবং মাদক সেবন শুক্রাণু উৎপাদন ব্যাহত করে। দ্বিতীয়ত, নিয়মিত অ্যালকোহল গ্রহণ শরীরে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কমিয়ে দেয়। তৃতীয়ত, ধূমপানের ফলে শুক্রাণুর ডিএনএ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং এর গতিশীলতা কমে যায়। চতুর্থত, অতিরিক্ত মানসিক চাপ ও বিষণ্ণতা শরীরের হরমোনের স্বাভাবিক প্রবাহ নষ্ট করে শুক্রাণুর ঘনত্ব কমিয়ে দেয়। সবশেষে, স্থূলতা বা অতিরিক্ত ওজন হরমোনের পরিবর্তন ঘটিয়ে প্রজননস্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
শুক্রাণুর সংখ্যা কমে গেলে অনেক সময় যৌন আকাঙ্ক্ষা হ্রাস, ইরেকটাইল ডিসফাংশন কিংবা অণ্ডকোষে ব্যথার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, লজ্জা বা সামাজিক সংকোচ কাটিয়ে এই বিষয়ে সচেতন হওয়া জরুরি। স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, সুষম খাবার গ্রহণ, নিয়মিত ব্যায়াম এবং মানসিক চাপমুক্ত জীবনই পারে পুরুষদের প্রজননক্ষমতা অক্ষুণ্ণ রাখতে। সময়মতো সচেতনতাই সুস্থ ভবিষ্যৎ ও সুখী দাম্পত্য জীবনের চাবিকাঠি।



