বর্তমান ডিজিটাল যুগে ফ্রিল্যান্সিং, অনলাইন কেনাকাটা কিংবা বিদেশে ভ্রমণের জন্য ডুয়েল কারেন্সি কার্ড একটি অপরিহার্য অনুষঙ্গ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এতদিন ধারণা করা হতো পাসপোর্ট ছাড়া এই কার্ড পাওয়া অসম্ভব, কিন্তু আধুনিক ফিনটেক সেবার কল্যাণে এখন ঘরে বসেই নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় ডুয়েল কারেন্সি কার্ড সংগ্রহ করা সম্ভব। মূলত বাংলাদেশি টাকা এবং ইউএস ডলার—উভয় মুদ্রায় লেনদেনের সুবিধাসম্পন্ন এই কার্ড গ্রাহকদের আন্তর্জাতিক পেমেন্টের দুয়ার খুলে দিচ্ছে।
আবেদনের প্রক্রিয়া ও প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস: পাসপোর্ট ছাড়াই এই কার্ড পেতে হলে প্রথমেই কোনো নির্ভরযোগ্য ব্যাংক বা ফিনটেক অ্যাপ (যেমন: সেলফিন, মাইক্যাশ বা বিভিন্ন ডিজিটাল ব্যাংকিং অ্যাপ) স্মার্টফোনে ইনস্টল করতে হবে। এরপর নিজের মোবাইল নম্বর এবং জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) ব্যবহার করে ই-কেওয়াইসি (e-KYC) সম্পন্ন করতে হবে। অধিকাংশ ফিনটেক প্রতিষ্ঠান এখন শুধু এনআইডি যাচাইয়ের মাধ্যমেই ভার্চুয়াল ডুয়েল কারেন্সি কার্ড ইস্যু করছে। আবেদন সম্পন্ন হওয়ার ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই কার্ডটি সক্রিয় হয়ে যায়, যা দিয়ে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অনলাইন প্ল্যাটফর্মে পেমেন্ট করা সম্ভব।
পাসপোর্ট এন্ডোর্সমেন্টের গুরুত্ব: পাসপোর্ট ছাড়া কার্ড হাতে পাওয়া গেলেও এর একটি আইনি সীমাবদ্ধতা রয়েছে। বাংলাদেশের বিদ্যমান ব্যাংকিং নীতিমালা অনুযায়ী, কার্ডে ইউএস ডলার লোড করতে বা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে লেনদেন করতে হলে পাসপোর্টে ডলার এন্ডোর্সমেন্ট করা বাধ্যতামূলক। অর্থাৎ, আপনি কার্ডটি পাসপোর্ট ছাড়াই সংগ্রহ করতে পারবেন এবং টাকা দিয়ে লেনদেন করতে পারবেন, কিন্তু ডলার ব্যবহারের ক্ষেত্রে একবার ব্যাংকে গিয়ে পাসপোর্ট প্রদর্শন করে এন্ডোর্সমেন্ট করিয়ে নিতে হবে।
সতর্কতা ও টিপস: নিরাপদ লেনদেনের জন্য শুধুমাত্র বাংলাদেশ ব্যাংক অনুমোদিত লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠান থেকে কার্ড নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এছাড়া কার্ডের পিন নম্বর এবং সিভিভি (CVV) গোপন রাখা এবং বিদেশি লেনদেনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য চার্জ ও লিমিট সম্পর্কে আগেভাগেই জেনে নেওয়া জরুরি। এই আধুনিক ব্যবস্থার ফলে এখন সাধারণ গ্রাহকরাও কোনো ঝামেলা ছাড়াই ডিজিটাল লেনদেনের আওতায় আসতে পারছেন।



