বাংলাদেশে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকির আশঙ্কায় সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নিয়েছে ভারত। নয়াদিল্লি বাংলাদেশে কর্মরত ভারতীয় কূটনীতিক ও কর্মকর্তাদের পরিবারের সদস্যদের দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে। এর ফলে বাংলাদেশে অবস্থিত ভারতীয় হাইকমিশন ও চারটি সহকারী হাইকমিশনকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘পরিবার-বহির্ভূত’ কূটনৈতিক পোস্টিং হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। আগে এই মর্যাদা কেবল ইরাক, আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও দক্ষিণ সুদানের মতো উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ছিল; এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলো বাংলাদেশ।
সূত্র জানায়, সিদ্ধান্তটি পুরোপুরি সতর্কতামূলক। ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী ও খুলনায় অবস্থিত ভারতীয় হাইকমিশন ও সহকারী হাইকমিশনগুলো স্বাভাবিকভাবেই কার্যক্রম চালিয়ে যাবে এবং কূটনৈতিক কাজ অব্যাহত থাকবে। তবে কর্মকর্তাদের স্ত্রী ও সন্তানদের সাময়িকভাবে ভারতে ফিরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হয় ১ জানুয়ারি থেকে। কর্মকর্তাদের পরিবারকে ৮ জানুয়ারির মধ্যে দেশে ফেরার নির্দেশ দেওয়া হয়, আর স্কুলপড়ুয়া সন্তানদের জন্য বাড়তি সাত দিনের সময় দেওয়া হয়। ফলে ১৫ জানুয়ারির মধ্যেই সংশ্লিষ্ট পরিবারের সদস্যরা বাংলাদেশ ত্যাগ করেন।
এ বিষয়ে এখনো ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা না দিলেও একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র সিদ্ধান্তটির সত্যতা নিশ্চিত করেছে। সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনার পর ভারতের নিরাপত্তা উদ্বেগ বেড়ে যায় বলে জানা গেছে। শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনার মধ্যেই ময়মনসিংহে হিন্দু যুবক দিপু চন্দ্র দাসকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটে, যা ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, আসাম ও ত্রিপুরায় তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। এসব ঘটনায় উভয় দেশের রাষ্ট্রদূতদের তলব-পালটা তলব পরিস্থিতিকে আরও স্পর্শকাতর করে তোলে।
বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের আগে এমন সিদ্ধান্ত ভারতের জন্য অস্বাভাবিক নয়। ভারতের কাছে হয়তো গোয়েন্দা তথ্য ছিল, যার ভিত্তিতে ভারতীয় নাগরিক বা কূটনৈতিক কর্মীদের পরিবারের ওপর সম্ভাব্য সহিংসতার আশঙ্কা করা হয়েছে। অতীতেও এ ধরনের নজির রয়েছে—২০১৬ সালে ঢাকার হলি আর্টিসান হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে নিযুক্ত কূটনীতিকদের পরিবার প্রত্যাহার করেছিল এবং প্রায় এক দশক ধরে সেই নীতি বহাল রেখেছে। সে দৃষ্টিকোণ থেকে ভারতের সিদ্ধান্ত নতুন নয় এবং এটি সাময়িক। নির্বাচন শেষে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরলে এই নীতি পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে।



