জীবনের নানা চাপ, প্রতিযোগিতা ও সামাজিক প্রত্যাশার ভারে অনেক সময় আমরা উদ্বেগে ভুগি। কখনো মনে হয় সবকিছু হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে। সাধারণত এমন সময়ে আমরা বাইরের থেকে শান্তি বা আশ্রয় খুঁজে ফিরি। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, অনেক সময় সেই শান্তির উৎস লুকিয়ে থাকে আমাদের ভেতরেই। এর একটি সহজ কিন্তু কার্যকর উপায় হলো নিজেকে আলিঙ্গন করা (Self-Hug)।
নিজেকে আলিঙ্গন মানে শুধু শারীরিকভাবে নিজের দুই হাত দিয়ে নিজেকে জড়িয়ে ধরা নয়। এর ভেতরে রয়েছে আত্মসহানুভূতি, মমতা ও নিজের প্রতি ভালোবাসার প্রকাশ। এটি এক ধরনের শারীরিক মেডিটেশন, যা আমাদের স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত করে এবং মানসিক চাপ হ্রাসে সহায়তা করে।
কেন উদ্বেগ কমায় নিজেকে আলিঙ্গন?
১. অক্সিটোসিন হরমোনের নিঃসরণ
যখন আমরা কাউকে আলিঙ্গন করি— এমনকি নিজেকেও— তখন শরীরে অক্সিটোসিন হরমোন নিঃসৃত হয়। একে বলা হয় ভালোবাসার হরমোন বা বন্ধনের হরমোন। এটি নিরাপত্তা ও প্রশান্তির অনুভূতি তৈরি করে এবং উদ্বেগ কমায়।
২. প্যারাসিমপ্যাথেটিক সিস্টেম সক্রিয় হয়
নিজেকে আলিঙ্গন করলে শরীরের প্যারাসিমপ্যাথেটিক নার্ভাস সিস্টেম সক্রিয় হয়, যা আরামের জন্য দায়ী। এর ফলে হৃদস্পন্দন ধীর হয়, শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক হয় এবং মন শান্ত হয়।
৩. নিজের সঙ্গে সংযোগ তৈরি হয়
উদ্বেগ প্রায়ই আসে যখন আমরা নিজের অনুভূতিকে অস্বীকার করি বা নিজের ওপর অতিরিক্ত চাপ দেই। নিজেকে আলিঙ্গন করলে আমরা নিজের কষ্টকে স্বীকৃতি দিই— যেন বলছি, আমি আছি তোমার পাশে। এই স্বীকৃতিই চাপ কমাতে সাহায্য করে।
কীভাবে নিজেকে আলিঙ্গন করবেন?
১. একটি শান্ত পরিবেশ বেছে নিন।
২. চোখ বন্ধ করে কিছুক্ষণ গভীরভাবে শ্বাস নিন।
৩. নিজের দুই হাত দিয়ে কাঁধের উপর দিয়ে আলতো করে নিজেকে জড়িয়ে ধরুন।
৪. মনের মধ্যে বলুন—
আমি তোমাকে বুঝি।
তুমি যা অনুভব করছো, তা স্বাভাবিক।
আমি তোমার পাশে আছি।
৫. কিছুক্ষণ এভাবে থাকুন এবং শ্বাস-প্রশ্বাস অনুভব করুন।
অতিরিক্ত টিপস
প্রতিদিন সকালে বা রাতে ১–২ মিনিট নিজেকে আলিঙ্গন করুন।
ধ্যান বা মেডিটেশনের অংশ হিসেবে প্র্যাকটিস করতে পারেন।
নিজেকে বলুন কিছু প্রেরণাদায়ী বাক্য, যেমন: আমি যথেষ্ট, আমি ভালো করছি।
নিজেকে আলিঙ্গন করা কোনো দুর্বলতা নয়— বরং নিজের প্রতি যত্ন নেওয়ার এক শক্তিশালী মাধ্যম। এটি উদ্বেগ কমাতে, নিজের সঙ্গে গভীর সংযোগ গড়তে এবং মানসিক শান্তি বজায় রাখতে সহায়ক হতে পারে। তাই আজই শুরু করুন— নিজের জন্য কিছু সময় বের করুন, নিজেকে জড়িয়ে ধরুন। কারণ আপনিই জানেন আপনি কী অনুভব করছেন, আর আপনিই পারেন নিজেকে সত্যিকারের প্রশান্তি দিতে।



