বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন রাজনীতিবিদ শাহানা হানিফ আবারও বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন নিউ ইয়র্ক সিটি কাউন্সিলের ৩৯ নম্বর আসনে। প্রায় ৭০ শতাংশ ভোট পেয়ে তিনি তার ইহুদি প্রতিদ্বন্দ্বী মায়া কর্নবার্গকে পরাজিত করেন। ২০২১ সালে প্রথমবার কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়ে নিউ ইয়র্ক সিটির ইতিহাসে প্রথম মুসলিম এবং বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নারী কাউন্সিলর হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন মাত্র ২৯ বছর বয়সে।
তৃণমূলের শক্তিতে জয়
নিউইয়র্ক টাইমস-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, শাহানার এবারের বিজয় ব্রুকলিনের রাজনৈতিক চেতনায় নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। প্রতিদ্বন্দ্বীরা কর্পোরেট তহবিল ও প্রতিষ্ঠানের সমর্থন পেলেও, শাহানার প্রচারণা ছিল পুরোপুরি তৃণমূলনির্ভর। তরুণ স্বেচ্ছাসেবক, ছোট অনুদান এবং প্রগতিশীল অভিবাসী সম্প্রদায়ের সমর্থনই ছিল তার আসল শক্তি।
গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে দৃঢ় অবস্থান
এই নির্বাচনে শাহানা হানিফ যে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলোকে সামনে এনেছিলেন, তা কোভিড-পরবর্তী নিউ ইয়র্কের প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
মূল ইস্যুগুলোর মধ্যে ছিল:
- সাশ্রয়ী আবাসনের নিশ্চয়তা
- অভিবাসীদের অধিকার রক্ষা
- জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়ন
- পুলিশ সংস্কার ও সামাজিক ন্যায়বিচার
শাহানার ভাষায়, “নিউ ইয়র্ক একটি অভিবাসী শহর। তাই অভিবাসীদের জন্য ন্যায়বিচার এবং জীবনযাপনের উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করাই আমার রাজনীতির মূল লক্ষ্য।”
চট্টগ্রাম থেকে কুইন্স, নেতৃত্বের মঞ্চে
শাহানার বাবা-মা ১৯৮০ সালে চট্টগ্রাম থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। প্রথমে জ্যাকসন হাইটসে এবং পরে ব্রুকলিনের কেনসিংটনে স্থায়ী হন। একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী ও লুপাস রোগে আক্রান্ত হিসেবে শাহানার ব্যক্তিগত জীবন তাকে আরও সহানুভূতিশীল করে তোলে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রতি। তিনি ম্যাকগিল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজবিজ্ঞান ও নারী অধিকার বিষয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন, যেখানে তার রাজনৈতিক চেতনার ভিত্তি গড়ে ওঠে।
ভবিষ্যতের লক্ষ্য
জয়ের পর শাহানা বলেন, “এই জয় শুধু আমার একার নয়। এটি আমাদের সম্প্রদায়ের, অভিবাসীদের, তরুণদের—যারা স্বপ্ন দেখে এবং নিজেদের কণ্ঠস্বর হিসেবে কাউকে খুঁজে পায় না।” তিনি আরও বলেন, “আমাদের লড়াই এখনো শেষ হয়নি। সাশ্রয়ী আবাসন, নিরাপদ জনপদ, এবং ন্যায়বিচারের লড়াই সামনে আরও জোরালোভাবে চালিয়ে যাব।”
শাহানা হানিফের নেতৃত্ব নিউ ইয়র্ক সিটিকে শুধু একটি অভিবাসী শহর হিসেবে নয়, বরং একটি অভিবাসী নেতৃত্বের শহর হিসেবেও তুলে ধরেছে। তার মতো তরুণ প্রগতিশীলরা প্রমাণ করছেন—মূলধারার রাজনীতিতে তৃণমূল থেকে উঠে এসেও পরিবর্তনের নেতৃত্ব দেওয়া সম্ভব।



