ওজন কমানো নিয়ে অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে—খাবার না খেলেই কি দ্রুত ওজন কমে? এই ধারণা থেকেই অনেকে মিল বাদ দেন, সারাদিন খুব কম খান কিংবা প্রায় না খেয়েই থাকেন। শুরুতে ওজন কিছুটা কমতে দেখলে মনে হয়, এটাই বুঝি সবচেয়ে সহজ উপায়। কিন্তু বাস্তবে শুধু না খাওয়াই কি সুস্থ ও স্থায়ী ওজন কমানোর সমাধান—এই প্রশ্নের উত্তর জানতে হলে শরীরের ভেতরের প্রক্রিয়াটা বুঝতে হবে।
একেবারে না খেলে প্রথম কয়েক দিনে ওজন কমে ঠিকই, তবে সেটা মূলত শরীরের জমে থাকা পানি ও গ্লাইকোজেন কমে যাওয়ার কারণে। এটি আসলে চর্বি কমা নয়, তাই এই ওজন হ্রাস স্বাস্থ্যকর নয়। বরং শরীর যখন বুঝতে পারে খাবার আসছে না, তখন সে শক্তি বাঁচাতে শুরু করে। ফলে মেটাবলিজম ধীর হয়ে যায় এবং ক্যালরি খরচ কমে আসে। এর ফল হলো—পরে অল্প খেলেও ওজন সহজে বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি।
খাবারের অভাবে শরীর শক্তির জন্য প্রথমে পেশি ভাঙতে শুরু করে, তারপর চর্বির দিকে যায়। পেশি কমে গেলে শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে এবং ফ্যাট বার্ন করার ক্ষমতাও কমে যায়। দীর্ঘমেয়াদে এতে ওজন কমানো আরও কঠিন হয়ে ওঠে। পাশাপাশি না খেয়ে থাকলে মাথা ঘোরা, দুর্বলতা, গ্যাস্ট্রিক, চুল পড়া, খিটখিটে মেজাজ, মনোযোগের ঘাটতির মতো নানা শারীরিক ও মানসিক সমস্যা দেখা দিতে পারে।
সত্য কথা হলো, না খেয়ে থাকলে স্বল্প সময়ে ওজন কমতে পারে, কিন্তু তা টেকসই নয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ওজন আবার ফিরে আসে, অনেক সময় আগের চেয়েও বেশি বেড়ে যায়—যাকে বলা হয় ‘ইয়ো-ইয়ো ইফেক্ট’। তাই ওজন কমানো মানে নিজেকে অসুস্থ করা নয়, বরং শরীরের যত্ন নেওয়া।
স্বাস্থ্যকরভাবে ওজন কমাতে হলে না খেয়ে নয়, বরং সঠিকভাবে খেতে হবে। দিনে তিন বেলা বা ছোট ছোট মিল খাওয়া, অতিরিক্ত তেল-চিনি কমানো, খাবারে পর্যাপ্ত প্রোটিন, শাকসবজি ও ফল রাখা জরুরি। ভাত বা রুটি একেবারে বাদ না দিয়ে পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে ধীরে ধীরে খাওয়া ভালো। এর সঙ্গে নিয়মিত হাঁটা বা হালকা ব্যায়াম, প্রতিদিন অন্তত ৩০–৪৫ মিনিট শরীরচর্চা, পর্যাপ্ত পানি পান ও পর্যাপ্ত ঘুম ওজন কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সহজভাবে বললে, না খেলে ওজন কমে ঠিকই, কিন্তু তা ক্ষণস্থায়ী ও ক্ষতিকর। আর ঠিকভাবে খেলে ওজন কমে ধীরে, তবে স্থায়ীভাবে। ওজন কমানো কোনো শাস্তি নয়—বুদ্ধি করে খাওয়া, নিয়মিত নড়াচড়া ও ধৈর্যই সুস্থ ওজন কমানোর আসল চাবিকাঠি।



