সারা বিশ্বের দর্শকদের বহু প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আসছে নতুন ‘সুপারম্যান’। আন্তর্জাতিক মুক্তির দিনেই, ১১ জুলাই বাংলাদেশেও স্টার সিনেপ্লেক্সে মুক্তি পাচ্ছে বহুল কাঙ্ক্ষিত এই সিনেমাটি। টিজার ও ট্রেইলার প্রকাশের পর থেকেই এটি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। এ বছরের অন্যতম প্রতীক্ষিত সিনেমা হিসেবে ‘সুপারম্যান’ ইতোমধ্যে দর্শকদের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। একই দিনে মুক্তি পাচ্ছে মার্শাল আর্ট সুপারস্টার জ্যাকি চ্যান অভিনীত ‘কারাতে কিড : লিজেন্ডস’। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মুক্তি পাওয়া এই ছবিটিও ইতিমধ্যে প্রশংসা কুড়িয়েছে।
সুপারম্যান, মানে সেই চিরচেনা উক্তি—“Look at the sky! Is it a bird? Is it a plane? No, it’s Superman!” লাল-নীল কস্টিউমে মেট্রোপলিসের আকাশে উড়তে থাকা এই সুপারহিরোকে দেখে যুগের পর যুগ বিস্মিত হয়েছে দর্শকরা। ১৯৩৮ সালে অ্যাকশন কমিকসের প্রথম ইস্যুতে তার আগমন থেকেই তিনি কেবল একটি চরিত্র নয়, বরং একটি আদর্শ, একটি ভিন্ন ধারার প্রবর্তক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন। সুপারম্যান সবসময়ই আশা, সততা ও শক্তির প্রতীক হিসেবে বিবেচিত। সময়ের সাথে তার পরিচ্ছদ বা চেহারা বদলালেও তার মানবিকতা ও নৈতিকতা আজও অটুট।
ডিসি ইউনিভার্সের প্রথম সিনেমা হিসেবে জেমস গান পরিচালিত নতুন ‘সুপারম্যান’ ছবিতে এবার প্রধান চরিত্রে দেখা যাবে ডেভিড কোরেনসোয়েটকে। জেরি সিগেল ও জো শাস্টারের সৃষ্ট চরিত্রকে আধুনিক প্রেক্ষাপটে নতুনরূপে উপস্থাপন করছেন পরিচালক। জানা গেছে, এই সিনেমা কেবল অ্যাকশন নির্ভর নয় বরং মানবিকতা, অভিবাসন, রাজনীতি ও সম্পর্কের নৈতিক দ্বন্দ্বকেও তুলে ধরবে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমস অব লন্ডন-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জেমস গান জানান, “এই ছবি যুক্তরাষ্ট্রের আত্মা এবং ইতিহাসের প্রতিচ্ছবি। এটি এক অভিবাসীর গল্প, যে ভিন্ন পৃথিবী থেকে এসে নিজের পরিচয় খুঁজে নিচ্ছে। এর মূল বার্তা—‘মানবিকতা একটি মূল্যবান গুণ।’”
পরিচালক আরও বলেন, “আমি কোনো রাজনৈতিক বার্তা দিতে চাই না, বরং সমাজে মানবিক চেতনা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করি। সুপারম্যান তখনই আসে, যখন মানুষ ভালো কিছুর আশা হারিয়ে ফেলে।”
অন্যদিকে, অ্যাকশনপ্রেমীদের জন্য আরেকটি বড় উপহার হচ্ছে ‘কারাতে কিড : লিজেন্ডস’। মার্শাল আর্টের কিংবদন্তি জ্যাকি চ্যান আবারও মিস্টার হান চরিত্রে ফিরেছেন। এই সিনেমায় তার সঙ্গে আছেন রাফ মাচ্চিও, যিনি ড্যানিয়েল লারসোর ভূমিকায় অভিনয় করছেন। ছবিটি ২০১০ সালের ‘দ্য কারাতে কিড’ সিনেমার সিক্যুয়েল এবং ‘কোবরা কাই’ সিরিজের একটি সম্প্রসারণ। এতে দেখা যাবে লি নামের এক তরুণ বেইজিং থেকে নিউইয়র্কে এসে মার্শাল আর্ট শেখার মাধ্যমে নিজের আত্ম-অন্বেষণ শুরু করে।
ছবির কাহিনিতে উঠে এসেছে নতুন প্রজন্মের নায়ক-নায়িকারা, যারা একত্রিত হয়ে এক বিপজ্জনক কর্পোরেট মার্শাল আর্ট একাডেমির বিরুদ্ধে লড়াই করে। ড্যানিয়েল লারসো এবং জনি লরেন্স এবার প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, বরং মিত্র হিসেবে জ্যাকি চ্যানের চরিত্রের সঙ্গে একত্র হয়ে লড়াইয়ে অবতীর্ণ হন। ছবিতে উঠে এসেছে পারিবারিক মূল্যবোধ, আত্মবিশ্বাস এবং প্রকৃত মার্শাল আর্ট চেতনার বার্তা।
৭১ বছর বয়সেও জ্যাকি চ্যান নিজেই সব স্টান্ট করেছেন, যা তার শারীরিক সক্ষমতা ও অ্যাকশন স্কিলকে আরও একবার প্রমাণ করেছে। সিনেমাটি ইতিমধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় ৪৬ মিলিয়ন ডলার এবং অন্যান্য দেশে আরও ৪৬ মিলিয়ন ডলার আয় করেছে, যার ফলে মোট বৈশ্বিক আয় দাঁড়িয়েছে ৯২ মিলিয়ন ডলার।



