বিশ্বজুড়ে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া রোগগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো টাইপ-টু ডায়াবেটিস। বিশেষজ্ঞদের মতে, অনিয়মিত জীবনযাপন, দীর্ঘসময় বসে থাকা এবং শারীরিক পরিশ্রমের অভাব এ রোগের মূল কারণ। তাই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে চিকিৎসকরা নিয়মিত হাঁটার পরামর্শ দেন। কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যায়— দ্রুত হাঁটা কি সত্যিই ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতে পারে?
পুষ্টিবিদ ও ফিটনেস বিশেষজ্ঞ শিখা সিং জানান, টাইপ-টু ডায়াবেটিসের প্রধান সমস্যা হলো শরীরের ইনসুলিন প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যাওয়া। নিয়মিত দ্রুত হাঁটার অভ্যাস এই সমস্যাকে প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, ঘণ্টায় অন্তত ৪ কিলোমিটার গতিতে brisk walk করলে ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে। কারণ, brisk walk বিপাকক্রিয়া উন্নত করে, অতিরিক্ত চর্বি ঝরায় এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে আনে।
সিকে বিড়লা হাসপাতালের ইন্টারনাল মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. মনীষা অরোরার মতে, প্রতিদিন মাত্র ৩০ মিনিট হাঁটলেই রক্তে শর্করার মাত্রা ১৫ থেকে ২০ মিলিগ্রাম পার ডেসিলিটার পর্যন্ত কমতে পারে। দ্রুত হাঁটার সময় শরীরের ইনসুলিন সেন্সিটিভিটি বেড়ে যায়, মাংসপেশি সহজে গ্লুকোজ ব্যবহার করতে পারে এবং শরীরের প্রদাহ কমে আসে।
অন্যদিকে ডা. সুরেন্দ্র পাল সিং বলেন, ধীরে হাঁটার সুফল থাকলেও দ্রুত হাঁটার উপকারিতা আরও বেশি। তার পরামর্শ, প্রতিদিন অন্তত ২০-৩০ মিনিট brisk walk করা উচিত। ধীরে ধীরে হাঁটার গতি বাড়ালে শুধু ডায়াবেটিস নয়, হৃদরোগ ও শ্বাসতন্ত্রের সমস্যার ঝুঁকিও কমে।
চিকিৎসকদের মতে, দ্রুত হাঁটা ডায়াবেটিস প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত একটি পদ্ধতি। তবে এর পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখাও জরুরি। নিয়মিত brisk walk ও সুষম খাবারের সমন্বয়ই শরীর ও মনকে রাখবে সুস্থ ও কর্মক্ষম।



