কফি বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় পানীয়, যা দিনের শুরু থেকে ক্লান্তি দূর করা পর্যন্ত নানা মুহূর্তে মানুষের সঙ্গী। অনেকেই কফির সঙ্গে দুধ মিশিয়ে পান করতে পছন্দ করেন—যা স্বাদের পাশাপাশি শরীরের ওপরও নানা প্রভাব ফেলে। সাম্প্রতিক গবেষণা ও পুষ্টিবিদের বিশ্লেষণে জানা গেছে, দুধ মিশিয়ে কফি পান করা কিছু ক্ষেত্রে উপকারী হলেও, নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের জন্য তা সমস্যা তৈরি করতে পারে। ক্যাপাচিনো, লাতে বা মোচার মতো দুধযুক্ত কফি ক্রিমি স্বাদ বাড়ালেও দুধের প্রোটিন ও অ্যামিনো অ্যাসিড কফির অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট পলিফেনলের সঙ্গে মিশে প্রদাহ কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে জয়েন্টে ব্যথা, আর্থ্রাইটিস বা হাড়ের সংক্রমণজনিত প্রদাহে এ সংমিশ্রণ উপকারী হতে পারে। জার্নাল অব অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড ফুড কেমিস্ট্রিতে প্রকাশিত গবেষণায়ও দুধযুক্ত কফির প্রদাহ কমানোর প্রভাব তুলে ধরা হয়েছে। পুষ্টিবিদ শ্বেতা শাহ জানান, দুধ কফির অম্লত্ব কমিয়ে পিএইচ ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করে, যা অ্যাসিডিটি ও হজমের সমস্যায় আরাম দেয়।
তবে ল্যাকটোজ অসহিষ্ণু ব্যক্তিদের জন্য দুধ মিশ্রিত কফি বিপরীত প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে—ফুলে যাওয়া, অস্বস্তি বা হজমের সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, দুধযুক্ত কফি তৈরি করার পর তা পুনরায় গরম করা উচিত নয়, কারণ এতে খাদ্যনালিতে জ্বালা বা অস্বস্তি হতে পারে। ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকা বা ডায়েটিং করা ব্যক্তিদের জন্য ব্ল্যাক কফি বেশি উপযোগী, কারণ দুধযুক্ত কফিতে ক্যালোরির পরিমাণ তুলনামূলক বেশি। যদিও দুধ কফির তীব্রতা কমায়, ক্যাফেইনের নেতিবাচক প্রভাব হ্রাস করে এবং অ্যাসিডিটি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে, তবে এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট কার্যকারিতা কিছুটা কমে যায়।
সার্বিকভাবে, দুধ মিশিয়ে কফি খাওয়া ভালো না ক্ষতিকর—এর নির্দিষ্ট উত্তর নেই। এটি সম্পূর্ণ নির্ভর করে ব্যক্তির শারীরিক অবস্থা ও সহনশীলতার ওপর। বিশেষজ্ঞদের মতে, সংযমী পরিমাণে কফি পান এবং নিজের দেহের প্রতিক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করাই স্বাস্থ্যকর অভ্যাস বজায় রাখার মূল চাবিকাঠি।


