বাজারে এমনিতেই জিনিসপত্রের দাম আকাশছোঁয়া। এর মধ্যে যদি শোনেন সরকার ঋণ মেটাতে প্রতিনিয়ত নতুন টাকা বা ‘হাই পাওয়ার মানি’ ছাপাচ্ছে, তবে কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়াটাই স্বাভাবিক । অর্থনীতিবিদেরা বলছেন, সীমার অতিরিক্ত এই টাকা ছাপানো অনেকটা তরল দুধে জল মেশানোর মতো, যা দেশের সাধারণ মানুষের কষ্ট আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে ।
বর্তমানে দেশে রাজস্ব আদায়ের অবস্থা খুবই খারাপ। চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসেই আয় ঘাটতি হয়েছে প্রায় ১ লাখ কোটি টাকা ! এই অবস্থায় সরকারি কর্মচারীদের বেতন, ভর্তুকি আর ঋণের সুদ মেটাতে সরকারকে বাধ্য হয়ে ব্যাংক থেকে ধার নিতে হচ্ছে । অবাক করা বিষয় হলো, সরকার ইতিমধ্যেই ব্যাংক খাত থেকে ১ লাখ ১২ হাজার ৭৬১ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে, যা পুরো বছরের লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও অনেক বেশি !
বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে আর ঋণ না পেলে সরকার সরাসরি বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ধার নিচ্ছে, যার মানে হলো দেশে কৃত্রিমভাবে ‘নতুন টাকা’ ছাপানো । সহজ ভাষায়, এভাবে ১ টাকা ছাপালে বাজারে তা পাঁচ গুণ বেশি প্রভাব তৈরি করে । এর ফলে বাজারে মানুষের হাতে টাকা বাড়লেও পণ্যের জোগান বাড়ে না, যার কারণে হু হু করে জিনিসপত্রের দাম বাড়তে থাকে এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যায় ।
এমনিতেই জ্বালানি তেল ও গ্যাসের বাড়তি দামের কারণে দেশের সাধারণ মানুষ বেশ চাপে আছেন । এর ওপর নতুন করে টাকা ছাপানোর এই প্রবণতা নিম্ন ও মধ্যবিত্তের জীবনযাত্রাকে আরও কঠিন করে তুলবে । তাই সাময়িক স্বস্তির জন্য নতুন টাকা না ছাপিয়ে, সাধারণ মানুষের কথা ভেবে সামষ্টিক অর্থনীতির দিকে এখনই নজর দেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা ।



