বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক সক্রিয় চিকিৎসক ডা. হাওয়ার্ড টাকার। ১৯৪৭ সাল থেকে চিকিৎসা পেশায় যুক্ত এই প্রজ্ঞাবান ব্যক্তির বয়স এখন ১০২ বছর। আশ্চর্যের বিষয়, শতবর্ষ পেরিয়েও তিনি এখনও পেশাগত জীবন থেকে সরে দাঁড়াননি—বরং নতুন চাকরির খোঁজ করছেন। সম্প্রতি ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি শেয়ার করেছেন তার দীর্ঘ জীবন, তারুণ্য ধরে রাখার রহস্য ও জীবন উপভোগের মূলমন্ত্র।
২০২২ সালে যেখানে তিনি শিক্ষকতা করতেন, সেই প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ হয়ে গেলেও থেমে যাননি ডা. হাওয়ার্ড। এখন নিয়মিত রোগী না দেখলেও নিউরোমেডিসিন বিশেষজ্ঞ হিসেবে তার কর্মপ্রীতি একটুও কমেনি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীতে এবং কোরিয়ান যুদ্ধে আটলান্টিক নৌবহরের প্রধান নিউরোলজিস্ট হিসেবে তিনি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।
চিকিৎসা ছাড়াও তার আরও একটি পরিচয় রয়েছে। ৬৭ বছর বয়সে তিনি আইনশাস্ত্রে ডিগ্রি অর্জন করেন এবং ওহাইওর বার পরীক্ষাও পাস করেন। সেই সময়েও তিনি চিকিৎসা সেবা চালিয়ে যান। এমনকি করোনা মহামারির সময়ও সম্মুখসারির যোদ্ধা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি মাঝে মাঝে ক্লিভল্যান্ডের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে মেডিসিন ও আইনের ক্লাস নেন এবং চিকিৎসা সংক্রান্ত আইনি পরামর্শ দেন।
ডা. হাওয়ার্ড বর্তমানে টিকটকেও দারুণ জনপ্রিয়। তার নাতি অস্টিন ও বন্ধু টেলর ট্যাগলিয়ানেটি তাকে নিয়ে নির্মাণ করেছেন একটি তথ্যচিত্র—‘What’s Next?’। সেইসঙ্গে তার টিকটক অ্যাকাউন্টেও রয়েছে লক্ষাধিক অনুসারী, যেখান থেকে তিনি তার অভিজ্ঞতা, স্বাস্থ্য ও জীবনের গল্প ভাগ করে নেন।
তার দীর্ঘ জীবনের পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন—জ্ঞানচর্চা এবং মানুষের সঙ্গে সক্রিয় যোগাযোগ। তার মতে, অবসর গ্রহণ মস্তিষ্কের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। নিয়মিত কর্মে যুক্ত থাকলে মস্তিষ্ক সজাগ ও কর্মক্ষম থাকে, এবং বয়স বাড়লেও দক্ষতা কমে না।
জীবনধারায় সুস্থতা বজায় রাখতে তিনি কয়েকটি পরামর্শ দেন—কর্মে সক্রিয় থাকা, ধূমপান না করা এবং অন্তরে কোনো ঘৃণা না রাখা। তার খাদ্যতালিকায় থাকে টাটকা শস্য, ফলমূল, সবজি, মাছ ও মুরগি। সকালে ৮৯ বছর বয়সী স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে ফল ও টোস্ট দিয়ে দিন শুরু করেন, আর রাতে খান মাছ বা সালাদ। তবে মাঝে মাঝে ডোনাট বা আইসক্রিম খাওয়ার দুর্বলতাও রয়েছে তার।
শৃঙ্খলাবোধ, বন্ধুত্ব ও শরীরচর্চাকে তিনি জীবনের মূল স্তম্ভ হিসেবে দেখেন। বয়স বাড়লেও তিনি কিছু না কিছু শরীরচর্চা করেন, ছোটদের সঙ্গে তুষারে খেলেন এবং তরুণ বন্ধুদের সঙ্গ উপভোগ করেন। তার মতে, বয়স নয়—মানসিকতা ও সম্পর্কই মানুষকে তরুণ রাখে।
শেষ কথায় তিনি বলেন, কাজ এমন হওয়া উচিত যা স্বাস্থ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত না করে। যদি কোনো পেশা দেহ-মনকে বিরক্ত করে, তবে নতুন কিছু করার চেষ্টা করা উচিত। তার জীবনদর্শনের মূলমন্ত্র—যতদিন পারা যায় শেখা, ভাবা এবং সমাজের সঙ্গে যুক্ত থাকা—এই তিনটি বিষয়ই দীর্ঘ ও প্রাণবন্ত জীবনের চাবিকাঠি।



