যুক্তরাষ্ট্রের পর পাপুয়া নিউগিনিকেও উড়িয়ে দিয়ে নারী টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে আরও শক্ত অবস্থানে পৌঁছে গেছে বাংলাদেশ। মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় ম্যাচে ৩০ রানের দাপুটে জয় তুলে নিয়ে গ্রুপের শীর্ষে উঠে গেছে নিগার সুলতানার দল। এখন বাকি দুটি ম্যাচের যেকোনো একটিতে জয় পেলেই ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিতব্য নারী টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের টিকিট কার্যত নিশ্চিত হয়ে যাবে বাংলাদেশের।
টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশ নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেটে তোলে ১৬৮ রান। শুরুতে দিলারা আক্তার ও জুয়াইরিয়া ফেরদৌসের ৪৯ রানের উদ্বোধনী জুটিতে ভালো ভিত্তি পায় দল। জুয়াইরিয়া ১১ বলে ১৭ রান করে ফিরলেও দিলারা দায়িত্বশীল ব্যাটিং করে ৩৫ রান করেন। মাঝের ওভারগুলোতে রান তোলার গতি কিছুটা কমে যায়। ১৬তম ওভারে শারমিন আক্তার (২৮) আউট হওয়ার পর ম্যাচের গতি পাল্টে দেন স্বর্ণা আক্তার ও সোবহানা মোস্তারি। দুজনের ৬২ রানের কার্যকর জুটিতে শেষের দিকে বড় সংগ্রহ পায় বাংলাদেশ। স্বর্ণা মাত্র ১৪ বলে ৪টি ছক্কা ও একটি চারে অপরাজিত ৩৭ রান করেন, আর সোবহানা ২৪ বলে করেন মূল্যবান ৩৪ রান।
পাপুয়া নিউগিনির হয়ে বোলিংয়ে মাইরি টম, হিনাও থমাস ও দিকা লোহিয়া একটি করে উইকেট শিকার করেন।
১৬৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাপুয়া নিউগিনি আক্রমণাত্মক সূচনা করে। ৩.১ ওভারে ৩২ রান তুলে তারা চাপ তৈরি করলেও দ্রুত দুই উইকেট হারিয়ে ছন্দ হারায়। এরপর ব্রেন্ডা তাউ (৩৫) ও সিবোনা জিমি (২৮) ৫৪ রানের জুটি গড়ে লড়াইয়ে ফেরার চেষ্টা করেন। তবে ১৪তম ওভারে ব্রেন্ডা আউট হতেই ভেঙে পড়ে তাদের ব্যাটিং লাইনআপ। ২ উইকেটে ৯৮ রান থেকে দলটি শেষ পর্যন্ত ৯ উইকেটে ১৩৮ রানেই থেমে যায়। হোলান দরিগা করেন ২১ রান।
বাংলাদেশের বোলিংয়ে ছিল চমৎকার দলীয় ভারসাম্য। সাত বোলারের মধ্যে সুলতানা খাতুন ছাড়া সবাই অন্তত একটি করে উইকেট নেন, যা দলের সম্মিলিত পারফরম্যান্সকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।
বাংলাদেশের পরবর্তী ম্যাচ নামিবিয়ার বিপক্ষে, এরপর শেষ ম্যাচ আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে। এই দুটি ম্যাচের যেকোনো একটিতে জয় পেলেই সুপার সিক্সে জায়গা করে নেওয়ার পাশাপাশি নারী টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ প্রায় নিশ্চিত হয়ে যাবে।



