আমরা কত বছর বেঁচে আছি তা আমাদের ক্যালেন্ডারের বয়স বা ক্রোনোলজিক্যাল বয়স দিয়ে মাপা হয়। কিন্তু আমাদের শরীরের কোষ ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ আসলে কত দ্রুত বুড়িয়ে যাচ্ছে, তা নির্ধারণ করে ‘জৈবিক বয়স’। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, ঘুমের মেয়াদের ওপর ভিত্তি করে এই জৈবিক বয়স বাড়ার গতি কম বা বেশি হতে পারে। ‘নেচার’ সাময়িকীতে প্রকাশিত গবেষণায় দেখা গেছে, যারা রাতে ৬.৪ থেকে ৭.৮ ঘণ্টা ঘুমান, তাদের শরীর অন্যদের তুলনায় ধীরগতিতে বুড়িয়ে যায়। অন্যদিকে, খুব কম (৬ ঘণ্টার কম) বা খুব বেশি (৮ ঘণ্টার বেশি) ঘুম মস্তিষ্কসহ শরীরের প্রায় প্রতিটি অঙ্গের বার্ধক্য ত্বরান্বিত করতে পারে।
অপর্যাপ্ত ঘুম শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয় এবং প্রদাহ বাড়িয়ে দেয়। এর ফলে টিস্যু মেরামত ও বিপাকীয় ভারসাম্য ব্যাহত হয়। কম ঘুম উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, স্থূলতা, বিষণ্ণতা ও উদ্বেগের ঝুঁকি বাড়ায়। অন্যদিকে, অতিরিক্ত ঘুম অনেক সময় শরীরের ভেতরে লুকিয়ে থাকা কোনো রোগের লক্ষণ হতে পারে। যারা ৮ ঘণ্টার বেশি ঘুমান, তাদের ক্ষেত্রেও বিষণ্ণতা ও দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতার ঝুঁকি বেশি থাকে।
যুক্তরাষ্ট্রের সিডিসি (CDC)-এর তথ্যমতে, সুস্থ থাকার জন্য ঘুমের চাহিদা বয়সভেদে ভিন্ন: ১৮ থেকে ৬০ বছর বয়সীদের অন্তত ৭ ঘণ্টা, ৬১ থেকে ৬৪ বছর বয়সীদের ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা এবং ৬৫ বছর বয়সীদের ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞরা তারুণ্য ও সুস্থতা ধরে রাখতে রাতে অন্তত ৮ ঘণ্টা বিছানায় থাকার পরিকল্পনা করতে বলেন, যাতে ৭ ঘণ্টা মানসম্মত ঘুম নিশ্চিত হয়। প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে যাওয়া ও ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস করুন, ঘুমানোর অন্তত এক ঘণ্টা আগে সব ধরনের স্ক্রিন বন্ধ করে দিন এবং রাতের খাবার দ্রুত সেরে ফেলুন। পর্যাপ্ত ও সঠিক সময়ের ঘুম কেবল আপনাকে সতেজই রাখে না, বরং শরীরের অভ্যন্তরীণ ঘড়িকে সচল রেখে বার্ধক্যকে দূরে সরিয়ে দেয়।



