খাবারের স্বাদ বাড়াতে যে উপাদানটি বহুল ব্যবহৃত হয়, তা হলো টেস্টিং সল্ট বা মনোসোডিয়াম গ্লুটামেট (এমএসজি)। একদিকে কেউ মনে করেন এটি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর, অন্যদিকে কেউ এর উপকারিতার কথাও বলেন। তবে সাম্প্রতিক বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও আন্তর্জাতিক খাদ্য নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর মতে, এমএসজি সাধারণত নিরাপদ। যদিও কিছু মানুষের শরীরে সাময়িক কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (FDA) জানিয়েছে, এমএসজি আসলে গ্লুটামিক অ্যাসিড নামক এক ধরনের নন-অ্যাসেনশিয়াল অ্যামিনো অ্যাসিডের সোডিয়াম লবণ। এটি প্রাকৃতিকভাবে অনেক খাবারে যেমন সামুদ্রিক শৈবাল, সয়া সস, পারমেসান পনির, টমেটো ও মাতৃদুগ্ধেও বিদ্যমান।
তবে জনমতে এমএসজির ক্ষতিকর দিক নিয়েও আলোচনা আছে। অনেকের দাবি, টেস্টিং সল্ট খাওয়ার কারণে মাথাব্যথা, বুক জ্বালা, গ্যাস্ট্রিক, এমনকি ক্যানসারের মতো সমস্যাও হতে পারে। এ ধরনের দাবির প্রেক্ষিতে কিছু জনপ্রিয় নুডলস কোম্পানি নিজেদের পণ্যে এমএসজি ব্যবহার না করার ঘোষণা দিয়েছে।
অন্যদিকে, ইন্টারন্যাশনাল গ্লুটামেট ইনফরমেশন সার্ভিস বলছে, এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে খাদ্যে নিরাপদভাবে ব্যবহার হচ্ছে টেস্টিং সল্ট। শত শত বৈজ্ঞানিক গবেষণার ভিত্তিতে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সঠিক মাত্রায় ব্যবহারে এটি ক্ষতিকর নয়। যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ, জাপান, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ডসহ বহু দেশে সরকারিভাবে এর ব্যবহার অনুমোদিত।
ইউরোপিয়ান ফুড ইনফরমেশন কাউন্সিল, ফুড স্ট্যান্ডার্ড অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড (FSANZ) ও সিঙ্গাপুরের গ্রেনেয়াগ্লেস হাসপাতালসহ বিভিন্ন সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানও বলেছে, টেস্টিং সল্টের সঙ্গে ক্যানসার বা গুরুতর অসুস্থতার কোনো প্রমাণিত সম্পর্ক নেই। FDA একে ‘সাধারণভাবে নিরাপদ’ (Generally Recognized As Safe) হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি প্রতিদিন প্রোটিনজাত খাবার থেকে গড়ে ১৩ গ্রাম গ্লুটামেট গ্রহণ করেন, যেখানে ফুড অ্যাডেটিভ হিসেবে এমএসজির পরিমাণ মাত্র ০.৫৫ গ্রাম। কিছু মানুষের মধ্যে মাথাব্যথা, বমিভাব বা জ্বালাপোড়া দেখা দিতে পারে ঠিকই, তবে তা হয় খালি পেটে ৩–৫ গ্রাম এমএসজি গ্রহণ করলে এবং এসব প্রতিক্রিয়া সাময়িক ও অল্পসময়ের জন্য হয়ে থাকে।
সার্বিকভাবে, বৈজ্ঞানিক গবেষণা, চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণ এবং আন্তর্জাতিক খাদ্য সংস্থাগুলোর বিবেচনায় টেস্টিং সল্ট বা মনোসোডিয়াম গ্লুটামেট নির্দিষ্ট মাত্রায় গ্রহণ করলে সাধারণভাবে মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর নয়।



