হঠাৎ শুরু হওয়া তীব্র মাথাব্যথা কেবল কাজের মনোযোগই নষ্ট করে না, বরং পুরো দিনটিকে বিষিয়ে তোলে। অনেকেই এই সমস্যাকে বড় কোনো রোগের উপসর্গ ভেবে আতঙ্কিত হন। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে মাথাব্যথার মূল কারণ কোনো জটিল অসুখ নয়, বরং আমাদের প্রতিদিনের অনিয়মিত জীবনযাপনের মধ্যেই এটি লুকিয়ে থাকে। চিকিৎসকের ভাষায় একে বলা হয় ‘প্রাইমারি হেডেক’, যা মূলত জীবনযাত্রার ত্রুটির কারণে সৃষ্টি হয়।
প্রাইমারি হেডেক কী এবং কেন হয়? প্রাইমারি হেডেক শরীরের ভেতরের কোনো বড় রোগের লক্ষণ নয়। মাথার ভেতরের ব্যথা অনুভবকারী স্নায়ু, রক্তনালি বা ঘাড় ও মাথার পেশির অতিরিক্ত সক্রিয়তার কারণে এই ব্যথা অনুভূত হয়। বিশেষজ্ঞরা জানান, অতিরিক্ত মানসিক চাপ, অনিয়মিত ঘুম, ভুল ভঙ্গিতে বসে কাজ করা এবং দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকার মতো অভ্যাসগুলো এই ব্যথার প্রধান অনুঘটক। এছাড়া শরীরে পানিশূন্যতা এবং অতিরিক্ত ক্যাফেইন বা অ্যালকোহল গ্রহণও মাথাব্যথাকে ত্বরান্বিত করে। এমনকি প্রক্রিয়াজাত মাংস বা নাইট্রেটযুক্ত খাবারও অনেকের ক্ষেত্রে মাঝারি থেকে তীব্র ব্যথার কারণ হতে পারে।
মুক্তির কার্যকর উপায়: মাথাব্যথা থেকে মুক্তি পেতে ওষুধের ওপর নির্ভরশীল না হয়ে জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানোর অভ্যাস করা, এমনকি ছুটির দিনেও সেই রুটিন বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করলে পানিশূন্যতাজনিত মাথাব্যথা এড়ানো সম্ভব। মানসিক চাপ কমাতে প্রতিদিন অন্তত কিছুক্ষণ ধ্যান (Meditation), যোগব্যায়াম বা হালকা ব্যায়াম বেশ কার্যকর ভূমিকা রাখে।
সতর্কতা ও বিশেষজ্ঞ পরামর্শ: সাময়িক আরাম পেতে অনেকেই দ্রুত ব্যথানাশক ওষুধ খেয়ে ফেলেন, যা দীর্ঘমেয়াদে শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তাই ওষুধের ওপর নির্ভরশীল হওয়ার আগে পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং সঠিক জীবনযাপন নিশ্চিত করাই বুদ্ধিমানের কাজ। দীর্ঘক্ষণ একনাগাড়ে স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে না থেকে চোখের বিশ্রাম দেওয়া এবং মেরুদণ্ড সোজা রেখে বসার অভ্যাসও আপনার মাথাব্যথার প্রবণতা অনেকাংশে কমিয়ে দিতে পারে। সুস্থ জীবনযাপনই হতে পারে এই সাধারণ অথচ যন্ত্রণাদায়ক সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়ার সবচেয়ে কার্যকর ও নিরাপদ উপায়।



