তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে লড়াইটা বেশ ভালোই জমিয়েছিল বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ে। কিন্তু শেষের ব্যাটিং ধসে ১৩ রানে হেরে গেছে বাংলাদেশ। এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ জিতে গেল জিম্বাবুয়ে। হারারে স্পোর্টস ক্লাব মাঠে টসে জিতে আগে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বাংলাদেশ, এবং শুরুটা দারুণ হয়েছিল তাদের। পেসার তাসকিন আহমেদ প্রথম ওভারেই ওপেনার ব্রায়ান বেনেটকে শূন্য রানে ফিরিয়ে দেন। এরপর ইনোসেন্ট কাইয়াওকে ৭ বলে ৪ রান করে ফেরান তিনি—দুই ওভারের মধ্যেই জিম্বাবুয়ের স্কোর দাঁড়ায় মাত্র ৮ রানে।
শুরুর এই ধাক্কা সামলে বেন কারান একপ্রান্ত আগলে রেখে লড়াই চালান। ক্রেইগ আরভিন (২০ বলে ৯), ওয়েসলি মাধেভেরে (৩০ বলে ১৫) ও সিকান্দার রাজা (৫৩ বলে ৩৩) কিছুটা এগিয়ে গেলেও বড় ইনিংস গড়তে পারেননি। তবে কারান ছিলেন দারুণ সাবলীল—১৩৫ বলে ১১১ রানের অসাধারণ সেঞ্চুরি করেন তিনি। শেষ দিকে ব্র্যাড ইভান্সের সঙ্গে তার জুটি দলকে এগিয়ে নিয়ে যায়। ইভান্স ৩৮ বলে ৫৮ রান করে অপরাজিত থাকায় নির্ধারিত ২০ ওভারে জিম্বাবুয়ের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৬ উইকেটে ২৪৭ রান। বাংলাদেশের হয়ে তাসকিন ও মিরাজ নেন ২টি করে উইকেট।
জবাবে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি বাংলাদেশের। সৌম্য সরকার ৫ বলে ১০ রান করে ফিরে যান, নাজমুল হোসেন শান্ত ১৬ বলে ৯ রান করে বিদায় নেন। তবে তানজিদ হাসান তামিম (৭০ বলে ৫৭) ও তাওহিদ হৃদয় (৯০ বলে ৬০)—দুজন মিলে ১২২ রানের জুটিতে দলকে লড়াইয়ে ফেরান। হৃদয় ফিরে যাওয়ার পর নুরুল হাসান সোহান (৪১ বলে ৩৮) ও মেহেদী হাসান মিরাজ দলকে এগিয়ে নেন, কিন্তু শেষ দিকে আবারও ব্যাটিং বিপর্যয় নেমে আসে।
শেষ ৩ ওভারে বাংলাদেশের দরকার ছিল মাত্র ১৭ রান, হাতে ছিল ২ উইকেট। কিন্তু সেই জায়গা থেকে আর রান তুলতে পারেনি তারা—শরিফুল ইসলাম ৪ বলে ৬ রান করে ফিরে যান, আর ৪৯তম ওভারের প্রথম বলেই আউট হন মিরাজ। শেষ পর্যন্ত ২৩৪ রানেই থেমে যায় বাংলাদেশের ইনিংস, ফলে ১৩ রানে জয় পায় জিম্বাবুয়ে। জিম্বাবুয়ের হয়ে রিচার্ড এনগারাভা ৩ উইকেট নেন, আর ২টি করে উইকেট পান মুজারাবানি ও ইভান্স। এই জয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই ২-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় নিশ্চিত করলো জিম্বাবুয়ে।



