প্রাণ–আরএফএল গ্রুপের চেয়ারম্যান আহসান খান চৌধুরী বলেছেন, রপ্তানি বাড়ানো ছাড়া দেশের সামনে কোনো বিকল্প নেই। তিনি মনে করেন, ভিয়েতনাম যদি ৩০০ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি করতে পারে, তাহলে বাংলাদেশও সক্ষম। এজন্য আগে সিদ্ধান্ত নিতে হবে—বাংলাদেশ আমদানিনির্ভর থাকবে, নাকি রপ্তানিনির্ভর জাতি হিসেবে এগোবে।
তিনি বলেন, চট্টগ্রাম থেকে নিউইয়র্ক পর্যন্ত সরাসরি জাহাজ চালু করা জরুরি, কারণ এতে রপ্তানি প্রক্রিয়া দ্রুত হবে এবং প্রাণ–আরএফএল গ্রুপ একাই এক বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি করতে সক্ষম হবে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য পাঠাতে প্রায় ৪৫ দিন সময় লাগে, যা প্রতিযোগিতায় বড় বাধা।
আহসান খান চৌধুরী আরও বলেন, বন্দরের কার্যক্রম বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে যাওয়ার পর ড্যামারেজ চার্জ বেড়ে গেছে, যা ব্যবসায়ীদের জন্য চাপ সৃষ্টি করছে। তিনি কাস্টমস কার্যক্রমকে যৌক্তিক করার পাশাপাশি আকাশপথে রপ্তানির খরচ কমানোর ওপরও গুরুত্ব আরোপ করেন। তাঁর মতে, ভারতীয় রপ্তানিকারকেরা কম খরচে এয়ার কার্গো ব্যবহার করে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে যাচ্ছে।
সরকারি চিনিকলের চিনি বিক্রি না হওয়া পর্যন্ত আমদানি বন্ধ রাখার বিষয়ে তিনি উল্লেখ করেন যে সরকারি চিনিকলের পণ্যের দাম প্রতিযোগিতামূলক নয়, তাই বাজার বাস্তবতা বুঝতে হবে।
প্রথম আলোর আয়োজনে ‘রপ্তানি বৈচিত্র্যকরণ: চ্যালেঞ্জ ও করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে এসব কথা বলেন তিনি। কারওয়ান বাজারে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। এছাড়া বিডা, ইপিবি, বার্জার পেইন্টস, রেনাটা, এইচএসবিসি ও বিভিন্ন রপ্তানিখাতের সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। গোলটেবিলটি সঞ্চালনা করেন প্রথম আলোর হেড অব অনলাইন শওকত হোসেন।



