ভোলার মনপুরা উপজেলায় মাত্র ২২ বছরের যুবক মো. শাকিল হোসেন শখের বসে বিষধর গোখরা সাপ নিয়ে খেলা দেখাতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন। দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা খোকন মাঝির ছেলে শাকিল প্রায় ১৫ দিন আগে প্রতিবেশী মোয়াজ্জেম সৈয়ালের বাড়ি থেকে একটি গোখরা ধরে আনেন এবং সেটিকে ‘পোষ মানানোর’ চেষ্টা করতে থাকেন।
শনিবার (৫ জুলাই) বিকেলে তিনি সাপটি নিয়ে বেড়িবাঁধ এলাকায় জমায়েত দর্শকের সামনে প্রদর্শনী শুরু করেন। খেলা চলাকালেই গোখরাটি হঠাৎ তাঁকে পায়ে ছোবল মারে। শাকিল প্রাথমিক চিকিৎসা না নিয়ে আত্মবিশ্বাসের বশে ক্ষতস্থানে মুখ লাগিয়ে ‘বিষ নামানোর’ চেষ্টা করেন এবং সাপটি নিয়ে বাড়ি ফেরেন। বাড়িতে পৌঁছানোর পর দ্রুত শরীরে বিষক্রিয়ার লক্ষণ দেখা দিলে পরিবারের লোকজন প্রথমে এক ওঝার কাছে নিয়ে যান; তবে অবস্থার আরও অবনতি ঘটলে রাতেই তাঁকে মনপুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। রোববার ভোরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, গোখরার মতো বিরল প্রজাতির বিষধর সাপ পালা বা তার সঙ্গে খেলা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। সাপের কামড়ের পর নিজে থেকে ‘বিষ নামানো’ সম্ভব নয়; জীবনের ঝুঁকি কমাতে দ্রুত হাসপাতালে গিয়ে অ্যান্টিভেনম নিতে হয়। মনপুরা থানার ওসি আহসান কবীর জানান, ঘটনাটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে।
এই দুঃখজনক ঘটনা আবারও প্রমাণ করে, বিষধর সাপকে বিনোদনের উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করা বা ‘পোষ মানানো’ প্রাণঘাতী হতে পারে। সচেতনতা ও সঠিক চিকিৎসাই সাপের কামড় থেকে প্রাণ বাঁচানোর একমাত্র উপায়।



