অলিম্পিক গেমসে ক্রিকেটের ফেরার জন্য ক্রিকেটপ্রেমীরা বহু বছর ধরে অপেক্ষা করে আসছিলেন। অবশেষে সেই প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ক্রিকেট ফিরছে ২০২৮ সালের লস অ্যাঞ্জেলস অলিম্পিকে। ১২৮ বছর পর আবারও অলিম্পিকে জায়গা করে নিচ্ছে এই জনপ্রিয় খেলা, যা শুরু হবে ১২ জুলাই ২০২৮ থেকে।
এলএ২৮ আয়োজক কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে ক্রিকেটের সূচি প্রকাশ করেছে। পুরুষ ও নারী—উভয় বিভাগের জন্য ছয়টি করে দল অংশ নেবে এই টুর্নামেন্টে। জমজমাট টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে প্রতিদিনই ডাবল হেডার ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। পুরুষ বিভাগের ফাইনাল ২০ জুলাই এবং নারী বিভাগের ফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে ২৮ জুলাই।
ক্রিকেটের এই ম্যাচগুলো বসবে লস অ্যাঞ্জেলস থেকে ৫০ কিলোমিটার দূরে পোমোনার ফেয়ারগ্রাউন্ডে, যেখানে বিশেষভাবে তৈরি একটি অস্থায়ী স্টেডিয়াম স্থাপন করা হবে। স্থানীয় সময় অনুযায়ী ম্যাচ শুরু হবে সকাল ৯টা ও সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে; ভারতীয় সময় অনুযায়ী তা হবে রাত ৯টা ৩০ এবং পরদিন ভোর ৭টা।
সূচি অনুযায়ী ১৪ ও ২১ জুলাই আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) শিগগিরই জানাবে—এই ছয়টি পুরুষ ও নারী দল কীভাবে বাছাই করা হবে। প্রতিটি দল ১৫ জন করে খেলোয়াড় নিয়ে স্কোয়াড গঠন করতে পারবে, যার ফলে প্রায় ৯০ জন করে খেলোয়াড়ের জন্য অলিম্পিক ভিলেজে স্থান বরাদ্দ থাকবে।
এর আগে মাত্র একবারই, ১৯০০ সালের প্যারিস অলিম্পিকে ক্রিকেট অনুষ্ঠিত হয়েছিল, যেখানে কেবল একটি ম্যাচ হয়েছিল। এরপর দীর্ঘ সময় ক্রিকেট অলিম্পিক থেকে ছিটকে ছিল। তবে এবার ২০২৮ সালে অলিম্পিকের মঞ্চে ফিরে এসে ক্রিকেট রচতে যাচ্ছে এক নতুন ইতিহাস।
ক্রিকেট ইতোমধ্যেই কমনওয়েলথ গেমস এবং এশিয়ান গেমসের মতো আন্তর্জাতিক আসরে অংশগ্রহণ করে তার জনপ্রিয়তা এবং গুরুত্ব আরও বাড়িয়েছে। ২০২২ সালের বার্মিংহাম কমনওয়েলথ গেমসে নারী ক্রিকেটের অভিষেক হয় এবং ১৯৯৮ সালে পুরুষ ক্রিকেটের অভিষেক হয়েছিল মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে। এরপর ২০১০, ২০১৪ ও ২০২৩ এশিয়ান গেমসে ক্রিকেট ছিল আলোচনায়।
উল্লেখ্য, ২০২৮ অলিম্পিকে ক্রিকেট ছাড়াও আরও চারটি নতুন খেলা অন্তর্ভুক্ত হয়েছে—বেসবল/সফটবল, ফ্ল্যাগ ফুটবল, ল্যাক্রস (সিক্সেস) এবং স্কোয়াশ। এই নতুন সংযোজনগুলো অলিম্পিক গেমসকে আরও বৈচিত্র্যময় ও আধুনিক করে তুলবে।



