ফাল্গুনের মাতাল হাওয়ায় ভেসে আসা ফুলের ঘ্রাণ জানিয়ে দেয়—প্রকৃতিতে এসে গেছে বসন্ত। ছয় ঋতুর এই ঋতুকে প্রেম ও ভালোবাসার ঋতু বলা হয়, কারণ পহেলা ফাল্গুনের আবহের সঙ্গে মিশে থাকে বিশ্ব ভালোবাসা দিবসের আবেগও। রঙিন শাড়ি, কাচের চুড়ি, কপালে টিপ আর খোঁপায় ফুলে সেজে ওঠেন তরুণীরা; অন্যদিকে রঙিন পাঞ্জাবি ও হাতে ফুল নিয়ে উৎসবমুখর সাজে দেখা যায় তরুণ থেকে প্রবীণ সবাইকে। শহর থেকে গ্রাম—সবখানেই ছড়িয়ে পড়ে বসন্তবরণের আনন্দ।
আগামীকাল শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) পহেলা ফাল্গুন উদ্যাপন উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন স্থানে নানা সাংস্কৃতিক আয়োজন করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বসন্ত উৎসবের মূল আয়োজন হয়ে আসা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর চারুকলা প্রাঙ্গণের পরিবর্তে এবার আগারগাঁওয়ের মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর-এর উন্মুক্ত চত্বরে জাতীয়ভাবে বসন্ত উৎসবের আয়োজন করছে জাতীয় বসন্ত উৎসব উদ্যাপন পরিষদ।
সকাল সাড়ে ৭টায় বেঙ্গল পরম্পরা সংগীতালয়-এর শিক্ষার্থীদের সমবেত যন্ত্র ও কণ্ঠসংগীত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে উৎসবের সূচনা হবে। দিনব্যাপী আয়োজনে থাকবে নৃত্য, একক ও দলীয় সংগীত, শিশু-কিশোর এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিল্পীদের পরিবেশনা। পাশাপাশি থাকবে ‘বসন্ত কথন’, প্রীতি-বন্ধনী, আবির বিনিময় এবং আবৃত্তির আয়োজন—যা উৎসবকে দেবে বাঙালির ঐতিহ্যবাহী রূপ।
উল্লেখ্য, ১৯৯১ সালে প্রথমবারের মতো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ ফাল্গুনের প্রথম দিনে বসন্তবরণ উৎসবের সূচনা করে। পরে এই আয়োজন ধীরে ধীরে জাতীয় উৎসবে পরিণত হয়। ঐতিহাসিক দিবসগুলোকে গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের সঙ্গে সমন্বয় করতে ২০১৯ সালে বাংলা বর্ষপঞ্জিতে পরিবর্তন আনা হয়; সেই ধারাবাহিকতায় ২০২০ সাল থেকে প্রতি বছর ১৪ ফেব্রুয়ারি পহেলা ফাল্গুন উদ্যাপন করা হচ্ছে।
বসন্তের রঙ, ভালোবাসার আবেগ এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের মেলবন্ধনে আবারও প্রাণ ফিরে পাবে বাংলার চিরচেনা উৎসব—বসন্তবরণ।



