করোনাভাইরাসের নতুন ঢেউ ফের উদ্বেগ বাড়াচ্ছে বিশ্বজুড়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এবারকার ভেরিয়েন্ট খুব কম উপসর্গে সরাসরি ফুসফুসে আঘাত হানছে। এমন পরিস্থিতিতে করোনা প্রতিরোধে এবং পরবর্তী স্বাস্থ্য সমস্যা মোকাবিলায় প্রাকৃতিক রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করতে পারে নিয়মিত যোগব্যায়াম। যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতসহ বিশ্বের নানা দেশের গবেষণায় এ বিষয়ে ইতিবাচক ফলাফল দেখা গেছে।
নিয়মিত যোগচর্চা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে এবং ফুসফুসকে করে আরও শক্তিশালী। নির্দিষ্ট কিছু আসন, প্রাণায়াম ও শিথিলায়ন কৌশল প্রাকৃতিকভাবেই দেহকে সুস্থ রাখে। যেমন, বক্রাসন ও সেতুবন্ধানাসন শরীরে লসিকা প্রবাহ বাড়িয়ে টক্সিন দূর করে এবং রোগ প্রতিরোধ কোষগুলোর কার্যকারিতা বাড়ায়। সেতুবন্ধানাসনে চিত হয়ে শুয়ে পা ও হাতে ভর দিয়ে কোমর উঁচু করতে হয়, আর বক্রাসনে বসে মেরুদণ্ডে মোচড় দিতে হয় নির্দিষ্ট নিয়মে।
ভুজঙ্গাসন ও মৎস্যাসন ফুসফুস প্রসারিত করে এর কার্যক্ষমতা বাড়ায়। মৎস্যাসনে চিত হয়ে বুক উঁচু করে মাথার তালু মাটিতে রাখতে হয়, আর ভুজঙ্গাসনে উপুড় হয়ে শুয়ে ধীরে ধীরে বুক উঁচু করে শ্বাস নিতে হয়।
অনুলোম-বিলোম ও ভ্রামরী প্রাণায়াম নার্ভাস সিস্টেমকে সক্রিয় করে স্ট্রেস কমায় এবং কোষে পর্যাপ্ত অক্সিজেন সরবরাহ নিশ্চিত করে। ভ্রামরী প্রাণায়ামে ভ্রমরের মতো গুঞ্জন ধ্বনি উৎপন্ন করতে হয়, যা নাইট্রিক অক্সাইডের পরিমাণ বাড়িয়ে রক্তপ্রবাহ উন্নত করে। অন্যদিকে, অনুলোম-বিলোম প্রাণায়ামে নাক পরিবর্তন করে শ্বাস গ্রহণ ও নির্গমনের মাধ্যমে ফুসফুস শক্তিশালী হয় এবং অ্যাজমা, অ্যালার্জির উপসর্গ কমে যায়।
করোনা আক্রান্ত অবস্থায় ডায়াফ্রেগমেটিক ব্রিদিং বা উপুড় হয়ে শুয়ে শ্বাসের নিয়ন্ত্রণ যোগ থেরাপিস্টের পরামর্শে তাৎক্ষণিক অক্সিজেন স্যাচুরেশন বাড়াতে সাহায্য করে। প্রতিদিন ২০–৩০ মিনিট নির্দিষ্ট আসন, প্রাণায়াম ও যোগনিদ্রা বা রিলাক্সেশন টেকনিক চর্চা করলে শরীর ও মন থাকবে প্রস্তুত, সচল ও সুরক্ষিত।
তবে জ্বর বা শারীরিক দুর্বলতার সময় কঠিন অনুশীলন এড়িয়ে চলা জরুরি। শরীরের সামর্থ্য অনুযায়ী চর্চা করুন। হার্ট বা ফুসফুসজনিত সমস্যায় ভোগা ব্যক্তিরা অবশ্যই যোগ থেরাপিস্টের পরামর্শ নেবেন। সতর্কতা মেনে আজ থেকেই যোগচর্চা শুরু করুন—নিজেকে এবং প্রিয়জনদের রাখুন নিরাপদ।



