সুস্থ ও কর্মক্ষম জীবনের জন্য পুষ্টিকর খাবার এবং নিয়মিত ব্যায়ামের পাশাপাশি পর্যাপ্ত ঘুম অপরিহার্য। আধুনিক ব্যস্ততা আর ডিজিটাল আসক্তির কারণে অনেকেই ঘুমের সঙ্গে আপস করেন, যা দীর্ঘমেয়াদে শরীরের অপূরণীয় ক্ষতি ডেকে আনে। বিশেষজ্ঞদের মতে, একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের সুস্থ থাকতে প্রতিদিন অন্তত ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন ঘুম প্রয়োজন। নিয়মিত ঘুমের অভাব কেবল ক্লান্তি বা মাথাব্যথাই তৈরি করে না, বরং এটি শরীরের রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দিয়ে অভ্যন্তরীণ প্রদাহ বা ইনফ্ল্যামেশন বাড়িয়ে দেয়।
পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব সরাসরি আমাদের বিপাক প্রক্রিয়ার ওপর প্রভাব ফেলে। ঘুমের সময় পাচনতন্ত্র বিশ্রাম পায়, কিন্তু অনিয়মিত ঘুমে এই প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়ে কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যা প্রকট হয়। এছাড়া দীর্ঘমেয়াদে কম ঘুমালে শরীরে ‘কর্টিসল’ হরমোনের মাত্রা বৃদ্ধি পায়, যা শরীরকে ইনসুলিনের প্রতি কম সংবেদনশীল করে তোলে। এর ফলে টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। শুধু শারীরিক নয়, মানসিক প্রশান্তির জন্যও গভীর ঘুমের বিকল্প নেই।
ভালো ঘুমের জন্য সঠিক ভঙ্গি এবং পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। বিশেষজ্ঞ ডা. র্যাচেল সালাসের মতে, গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা থাকলে বাম দিকে ফিরে ঘুমানো উপকারী এবং নাক ডাকার সমস্যা থাকলে পাশ ফিরে ঘুমানো ভালো। এছাড়া ত্বকের বলিরেখা রোধে চিত হয়ে ঘুমানোর পরামর্শ দেন তিনি। একটি স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের জন্য নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানোর অভ্যাস করা, শোবার আগে মোবাইল ফোন বর্জন এবং শান্ত ও অন্ধকার পরিবেশ নিশ্চিত করা সুস্থ থাকার অন্যতম চাবিকাঠি।



