গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ধুমাইটারি গ্রামের সাধারণ কৃষক তোফাজ্জল হোসেনের জীবনে হঠাৎ নেমে এসেছিল এক ভয়াবহ আঁধার। বহু বছরের ঘাম ঝরানো পরিশ্রম আর কষ্টের জমানো সঞ্চয়—দুই লাখ টাকা নিজের অজান্তেই নিঃশেষ হয়ে গিয়েছিল উইপোকা ও ইঁদুরের পেটে। ব্যাংক বা সুরক্ষিত ব্যবস্থার বাইরে রাখা এই জমানো কাগজগুলো নষ্ট হওয়ায় নিঃস্ব হয়ে পড়েছিলেন তিনি। জমানো সম্বল হারিয়ে যখন পুরো পরিবারটি চরম অনিশ্চয়তা ও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিল, ঠিক তখনই মানবতার এক অনন্য বার্তা নিয়ে পাশে এসে দাঁড়ান এক প্রবাসী বাংলাদেশি।
কৃষক তোফাজ্জল হোসেনের এই করুণ দূরবস্থা ও হতাশার খবর পৌঁছে যায় সৌদিপ্রবাসী মিজানুর রহমান ওরফে সুমনের কাছে। অন্যের কষ্টে ব্যথিত হয়ে মিজানুর রহমান এক মুহূর্ত দেরি না করে সেই কৃষকের পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন এবং তাঁর হারানো সঞ্চয়ের সমপরিমাণ—দুই লাখ টাকা সহায়তা প্রদানের ঘোষণা দেন।
সেই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, গত পরশু প্রবাসী সুমনের ছোট ভাই হাবিবুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে ধুমাইটারি গ্রামে গিয়ে কৃষক তোফাজ্জল হোসেনের হাতে পুরো দুই লাখ টাকা তুলে দেন। হারানো স্বপ্ন আর কষ্টের উপার্জন এভাবে অলৌকিক উপায়ে ফেরত পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন প্রবীণ এই কৃষক। মুহূর্তেই তাঁর ও তাঁর পরিবারের চোখে-মুখে ফুটে ওঠে স্বস্তি ও অপরিসীম আনন্দের হাসি।
প্রবাসে থেকেও দেশের মানুষের সুখে-দুঃখে এভাবে এগিয়ে আসা এবং নিঃস্ব এক পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর এই গল্পটি সামাজিক মাধ্যমে ও এলাকায় ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। প্রবাসী মিজানুর রহমানের এই উদ্যোগ প্রমাণ করে, দূরত্ব যত বড়ই হোক না কেন, লাল-সবুজের রক্তের টান ও মানবিক বোধ কখনোই মুছে যায় না।



