পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় পুলিশি গাফিলতি ও ভুল পরিচয়ের কারণে এক নিরপরাধ মানুষকে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয়েছে। একটি অর্থ প্রতারণার মামলার মূল আসামির সঙ্গে নাম ও বাবার নামের হুবহু মিল থাকায় মো. জলিল হাওলাদার (৪৭) নামে এক পেশায় জেলে সাধারণ মানুষকে ভুলভাবে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠায় পুলিশ। গত ১৯ আগস্ট তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং দীর্ঘ ২০ দিন কারাভোগের পর অবশেষে আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পান তিনি।
ঘটনার গভীরে গিয়ে অনুসন্ধানে জানা যায়, ওই মামলার মূল আসামি জলিল হাওলাদার আসলে ২০২৩ সাল থেকেই সৌদি আরবে অবস্থান করছেন। বিদেশে থাকা আসামির স্থলে কোনো প্রকার সঠিক তথ্য যাচাই-বাছাই না করেই কেবল নামের সাধারণ মিল দেখে একজন নিরপরাধ জেলেকে গ্রেপ্তার করা হয়। ফলে বিনা অপরাধে দীর্ঘ সময় জেলখানায় কাটাতে হয় তাকে, যা তার পরিবার ও জীবিকায় মারাত্মক প্রভাব ফেলেছে।
এই অনাকাঙ্ক্ষিত ও চরম দায়িত্বজ্ঞানহীন ঘটনার পর আদালত কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছেন। ভুল ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করার অপরাধে মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) সশরীরে আদালতে হাজির হয়ে লিখিত ও মৌখিক ব্যাখ্যা দেওয়ার স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন বিজ্ঞ আদালত।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এমন ভুল বা গাফিলতি একজন সাধারণ নাগরিকের মৌলিক মানবাধিকার ও স্বাধীনতাকে চরমভাবে ক্ষুণ্ন করে। কোনো ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের পূর্বে এনআইডি (NID) নম্বর ও ছবির মতো সুনির্দিষ্ট তথ্য সঠিক উপায়ে যাচাই করা কেন হলো না, তা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং বিচার ব্যবস্থার প্রতি আস্থা বজায় রাখতে তদন্তকারী কর্মকর্তাদের আরও বেশি সতর্ক ও দায়িত্বশীল হওয়া আবশ্যক।



