ফুটবল যে শুধু একটি খেলা নয়, বরং ভৌগোলিক দূরত্ব, ভাষা ও সংস্কৃতির সীমারেখা অতিক্রম করে মানুষকে এক বন্ধনে আবদ্ধ করতে পারে, তার আরেকটি উজ্জ্বল উদাহরণ দেখা গেল আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ ফাইনাল নিশ্চিত করার পর। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নেওয়ার আনন্দে মেতে ওঠা আর্জেন্টাইন সমর্থকদের কণ্ঠে উঠে এসেছে বাংলাদেশের নাম। তাদের অনেকেই বাংলাদেশকে আখ্যা দিয়েছেন নিজেদের ‘সেকেন্ড হোম’ বা দ্বিতীয় বাড়ি হিসেবে।
ম্যাচ শেষে স্টেডিয়ামের বাইরে উদযাপনের সময় আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে এক আর্জেন্টাইন সমর্থক বলেন, বাংলাদেশের মানুষের ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা এবং আর্জেন্টিনার প্রতি তাদের নিঃস্বার্থ সমর্থন সত্যিই অভূতপূর্ব। সেই ভালোবাসার কারণেই বাংলাদেশ আজ আর্জেন্টাইনদের হৃদয়ে বিশেষ একটি স্থান করে নিয়েছে। তাদের মতে, আর্জেন্টিনার সাফল্যে বাংলাদেশিদের উচ্ছ্বাস এবং আবেগ দুই দেশের মানুষের মধ্যে এক অনন্য বন্ধন তৈরি করেছে।
বিশ্বকাপের মঞ্চে আর্জেন্টিনার প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন নতুন কোনো ঘটনা নয়। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ থেকেই বাংলাদেশের কোটি ফুটবলপ্রেমীর উন্মাদনা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দেয়। সেই আবেগ ও সমর্থনের ধারাবাহিকতা ২০২৬ বিশ্বকাপেও বজায় রয়েছে। প্রতিটি ম্যাচে বাংলাদেশের শহর, নগর ও গ্রামাঞ্চলে রাত জেগে আর্জেন্টিনার খেলা উপভোগ করেছেন অসংখ্য সমর্থক, যা আর্জেন্টাইনদেরও গভীরভাবে স্পর্শ করেছে।
আর্জেন্টিনা দলের অধিনায়ক লিওনেল মেসি, প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনি এবং দলের আরও অনেক সদস্য বিভিন্ন সময় বাংলাদেশের সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে সেমিফাইনালের আগে স্কালোনির ‘গ্রাসিয়াস বাংলাদেশ’ বার্তা দুই দেশের ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে আলোড়ন সৃষ্টি করে। আর্জেন্টাইন সমর্থকদের বিশ্বাস, ফাইনালে দল শিরোপা জিততে পারলে সেই উৎসব শুধু বুয়েনস আইরেসেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং ঢাকার অলিগলি থেকে শুরু করে বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়বে বিজয়ের আনন্দ।
ফুটবলকে ঘিরে গড়ে ওঠা এই আবেগময় সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও গভীর হবে বলেই আশা করছেন আর্জেন্টাইনরা। তাদের মতে, আর্জেন্টিনা ও বাংলাদেশের মধ্যকার এই অনন্য ফুটবল-বন্ধন বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে ভালোবাসা ও সংহতির এক অনুকরণীয় উদাহরণ হয়ে থাকবে।



