এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগের প্রস্তুতির প্রথম দিনেই আকাশি-হলুদ জার্সিতে দেখা গেল জাতীয় দলের দুই ফরোয়ার্ড শেখ মোরসালিন ও আল আমিনকে। আগামী মৌসুমে আবাহনীর আক্রমণভাগে এই দুই ফুটবলার প্রথমবারের মতো একসঙ্গে খেলবেন।
ঘরোয়া ফুটবলে সম্ভাবনাময় একজন হিসেবে পরিচিত শেখ মোরসালিনের শেষ দুই মৌসুম বিশেষ ভালো কাটেনি। বিশেষ করে গত মৌসুমে তিনি বেশিরভাগ সময় বেঞ্চেই ছিলেন এবং মাঠের বাইরের কিছু নেতিবাচক ঘটনায়ও জড়ান। এবার নতুন চ্যালেঞ্জ নিতে তিনি বসুন্ধরা কিংস ছেড়ে পাড়ি জমিয়েছেন আবাহনীতে। এ প্রসঙ্গে মোরসালিন বলেন, “নিয়মিত খেলা এবং দলকে সাহায্য করার লক্ষ্য নিয়েই আবাহনীতে এসেছি। ক্লাবটি ঐতিহ্যবাহী, তাই নিজের সর্বোচ্চটা দিয়ে অবদান রাখতে চাই।”
আবাহনীর আক্রমণভাগে মোরসালিনের সঙ্গী হবেন আরেক জাতীয় দল ফরোয়ার্ড আল আমিন, যিনি গত মৌসুমে বাংলাদেশ পুলিশ এফসির হয়ে খেলেছেন। ক্লাব পরিবর্তন নিয়ে তিনি বলেন, “আবাহনীর মতো বড় দলে খেলা আনন্দের বিষয়। আমি নিয়মিত খেলার সুযোগ পেতে চাই এবং দলের জয়ে ভূমিকা রাখতে চাই।”
আবাহনীর কোচিং স্টাফ কাজী নজরুল ইসলাম নিশ্চিত করেছেন, শেখ মোরসালিন ও আল আমিন নতুন মৌসুমের প্রথম প্রস্তুতিতেই দলের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন। গুঞ্জন রয়েছে, আবাহনীতে দেখা যেতে পারে মালির স্ট্রাইকার সুলেমান দিয়াবাতেকেও। তবে ক্লাব ম্যানেজার সত্যজিৎ দাস রূপু জানিয়েছেন, এখনো বিষয়টি চূড়ান্ত হয়নি।
অন্যদিকে, দিয়াবাতের মোহামেডান ছাড়ার বিষয়টি প্রায় নিশ্চিত। গত মৌসুমে মোহামেডানকে দুই যুগ পর লিগ শিরোপা জেতাতে বড় ভূমিকা রাখেন তিনি। তাঁর জায়গায় দলটি রহমতগঞ্জের ঘানিয়ান স্ট্রাইকার স্যামুয়েল বোয়েটাংকে দলে নিতে পারে বলে শোনা যাচ্ছে। গত মৌসুমে দুই জনেই ১৯ গোল করে লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতা হন, তবে বোয়েটাং দিয়াবাতের চেয়ে দুই ম্যাচ বেশি খেলেছিলেন।
মোহামেডানে অবশ্য থাকছেন উজবেকিস্তানের মিডফিল্ডার মুজাফফর মুজাফফরভ। তিনি নিজেই বৃহস্পতিবার এক ফেসবুক পোস্টে ক্লাবে থেকে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। ৩০ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডার মোহামেডানের হয়ে এখন পর্যন্ত ৫৩ ম্যাচে ১১ গোল ও ১৬ অ্যাসিস্ট করেছেন। পোস্টে তিনি লেখেন, “আমার কাছে অন্যান্য ক্লাবের প্রস্তাব ছিল, কিন্তু আমি আমার ভালোবাসার ক্লাব মোহামেডানেই থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমরা আবার চ্যাম্পিয়ন হবো এবং ইতিহাস গড়বো।”
এদিকে আবাহনী থেকে মোহামেডানে যাচ্ছেন জাতীয় দলের স্ট্রাইকার সুমন রেজা। বসুন্ধরা কিংস হয়ে আবাহনীতে আসা এই ফরোয়ার্ড ইনজুরি আক্রান্ত মৌসুমে আবাহনীর হয়ে ৩টি গোল করেছিলেন।



