“গাছে কাঁঠাল, গোঁফে তেল”—বহুল ব্যবহৃত এই বাংলা বাগধারাটি বোঝায় প্রাপ্তির আগেই ভোগের প্রস্তুতি। আগে গরমে গোঁফে তেল মেখে কাঁঠাল খাওয়ার প্রস্তুতি নিতো মানুষ, যাতে আঠা না লাগে গোঁফে। তবে এখন আর তেলের দরকার নেই—কারণ আজ কাঁঠালের দিন। প্রতি বছর ৪ জুলাই পালিত হয় বিশ্ব কাঁঠাল দিবস। ২০১৬ সালে ‘jackfruitday.com’ নামক একটি ওয়েবসাইট এই দিবসের প্রচলন করে, কাঁঠালের পুষ্টিগুণ তুলে ধরতে এবং সচেতনতা বাড়াতে।
বিশ্বজুড়ে কাঁঠাল জনপ্রিয় ফল হলেও, এর উৎপত্তি দক্ষিণ এশিয়াতেই। কাঁঠাল বাংলাদেশের জাতীয় ফল, তাই দিনটি আমাদের জন্য বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। ফলটি এমন একটি প্রাকৃতিক উপহার, যার কোষ, বিচি, খোসা—সবই খাওয়ার উপযোগী। কাঁচা অবস্থায় এটি সবজি হিসেবে, আর পাকা অবস্থায় মিষ্টি ফল হিসেবে জনপ্রিয়। এমনকি বিচিও খেতে দারুণ। কাঁঠালের রস দিয়ে তৈরি হয় নানা রকমের ডেজার্ট।
“কাঁঠাল” শব্দটি পর্তুগিজ ভাষা থেকে এসেছে। পর্তুগিজ প্রকৃতিবিদ গার্সিয়া দ্য ওর্টা ১৫৬৩ সালে প্রথম “Jackfruit” শব্দটি ব্যবহার করেন তার বইতে।
কাঁঠালের পুষ্টিগুণ
কাঁচা ও পাকা উভয় অবস্থাতেই কাঁঠালে রয়েছে প্রচুর ভিটামিন, খনিজ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এতে থাকে থায়ামিন, রিবোফ্লাভিন, ক্যালসিয়াম, আয়রন, জিংক, সোডিয়াম, পটাসিয়াম, নায়াসিন ইত্যাদি।
এক কাপ কাঁঠালে পাওয়া যায়:
১৫৭ ক্যালোরি
৩৮ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট
৪০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম
২ গ্রাম ফ্যাট
৩ গ্রাম ফাইবার
৩ গ্রাম প্রোটিন
এছাড়াও এতে আছে ভিটামিন A, C, কপার, ম্যাঙ্গানিজ ও ম্যাগনেসিয়াম—যা শরীরের টিস্যু পুনর্গঠন ও রোগ প্রতিরোধে সহায়ক।
কাদের কাঁঠাল খাওয়া উচিত নয়?
যদিও কাঁঠাল উপকারী, তবুও রক্তের সমস্যা বা ডায়াবেটিস রোগীরা এটি বেশি খেলে ক্ষতি হতে পারে। কারণ, কাঁঠালের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স অনেক বেশি। এতে পোলেন ও ল্যাটেক্স থাকায় কারও কারও ক্ষেত্রে অ্যালার্জির ঝুঁকিও থাকে।
সার্জারির আগে ও পরে অতিরিক্ত কাঁঠাল খাওয়া থেকে বিরত থাকতে বলা হয়, কারণ এটি ওষুধের সঙ্গে বিক্রিয়া করতে পারে।
গর্ভাবস্থা ও ব্রেস্টফিডিং-এর সময় অতিরিক্ত কাঁঠাল খাওয়াও পরামর্শযোগ্য নয়।
যাদের কাঁঠাল খাওয়া উচিত
কাঁঠালে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ক্যানসার প্রতিরোধে সহায়তা করতে পারে। এতে থাকা ফাইবার কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে, যা পাইলসের রোগীদের উপকারে আসে।
ভিটামিন C ও আয়রন রক্ত তৈরি ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। এতে প্রচুর ক্যালরি থাকায় দ্রুত শক্তি পাওয়া যায়।



