
এবারের অমর একুশে বইমেলায় বই বিক্রি প্রত্যাশার তুলনায় অনেক কম হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রকাশক ও বিক্রয় প্রতিনিধিরা।
মেলার শেষ দিন রোববার (১৫ মার্চ) হতাশা প্রকাশ করে জিনিয়াস পাবলিকেশন্সের বিক্রয় প্রতিনিধি স্বর্ণা রানী মণ্ডল বলেন, “গতবারের মেলায় শুধু ছুটির দিনগুলোতেই লাখ টাকার মতো বই বিক্রি করেছি। কিন্তু এবার ১৮ দিন মিলিয়েও লাখ টাকার বই বিক্রি হয়নি। এবারের মেলা আমাদের জন্য পুরোপুরি লস প্রজেক্ট, এক কথায় ফ্লপ।”
তিনি আরও বলেন, ‘মেলায় পাঠক খুব একটা আসে না। যারা আসে তারা বেশিরভাগই দর্শনার্থী—ছবি ও সেলফি তুলে চলে যায়। পাঠকের তুলনায় দর্শনার্থীর সংখ্যাই বেশি ছিল।’ তার মতে, মেলা যদি রোজার আগে অথবা ঈদের পরে আয়োজন করা হতো, তাহলে বেচাকেনা অনেক ভালো হতে পারত।
মেলায় অংশ নেওয়া অনেক প্রকাশক ও বিক্রয় প্রতিনিধির চোখেমুখে ছিল হতাশা। বইপ্রেমী পাঠকের উপস্থিতি কম থাকায় স্টলগুলোতেও তেমন ভিড় দেখা যায়নি। শেষ দিনেও পাঠকের উপস্থিতি ছিল সীমিত। যারা এসেছেন তাদের মধ্যে অল্পসংখ্যকই বই কিনেছেন; বেশিরভাগই ঘুরে বেড়ানো ও ছবি তোলাতেই ব্যস্ত ছিলেন। মেলা শেষ হওয়ার আগেই বিকেলের দিকে কিছু স্টল থেকে বই সরিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু হয়।
কথা প্রকাশের ইনচার্জ জাফিরুল ইসলাম বলেন, “এবারের মেলায় আমরা হতাশ। আশানুরূপ কোনো বিক্রি হয়নি। ভেবেছিলাম শেষের দিকে বিক্রি বাড়বে, কিন্তু সেটাও হয়নি। মানুষ এখন ঈদের কেনাকাটায় ব্যস্ত, বই কেনার আগ্রহ কমে গেছে।”
অনুপম প্রকাশনীর ইনচার্জও একই ধরনের মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “বেচাকেনা খুব একটা ভালো হয়নি। অন্যান্য বছর মেলার শেষ দিন ভালো বিক্রি হয়, কিন্তু এবার তা দেখা যায়নি। রোজার শেষ পর্যায় ও সামনে ঈদ, সব মিলিয়ে মেলাটা তেমন জমেনি।” তিনি আগামী বছর রোজার সময় বইমেলা আয়োজন না করার আহ্বানও জানান।
পাঠক আবির বলেন, “এবারের বইমেলা খুবই কম সময়ের জন্য হয়েছে। শেষের দিনে বইমেলা এতটা ফাঁকা থাকবে, এমনটা আগে কখনো দেখিনি।”
বাংলা একাডেমির তথ্য অনুযায়ী, মেলার শেষ দিনে নতুন বই জমা পড়েছে ২৩৬টি। পুরো মেলায় মোট নতুন বই এসেছে ২০০৭টি।
মেলা পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব ড. মো. সেলিম রেজা জানান, বইমেলায় বাংলা একাডেমিসহ সব প্রতিষ্ঠানের বই ২৫ শতাংশ কমিশনে বিক্রি হয়েছে। বাংলা একাডেমি ১৪ মার্চ পর্যন্ত ১৭ দিনে মোট ১৭ লাখ ৪ হাজার ৬২৯ টাকার বই বিক্রি করেছে।
তিনি আরও জানান, মেলায় অংশগ্রহণকারী মোট ৫৮৪টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৪টি ছিল মিডিয়া ও স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান এবং ৫৭০টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে ২৬৯টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৭ দিনে তাদের মোট বিক্রির পরিমাণ প্রায় ৮ কোটি টাকা। সে হিসাবে গড় হিসেবে ৫৭০টি প্রতিষ্ঠানের মোট বিক্রি প্রায় ১৭ কোটি টাকা।
