বিদেশে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য ২০২৬ সালের বিশ্বের সেরা দেশ হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে বাল্টিক অঞ্চলের ছোট্ট রাষ্ট্র এস্তোনিয়া। নতুন প্রকাশিত রুমাভি গ্লোবাল রিলোকেশন ইনডেক্সে বিশ্বের ১৯২টি দেশ ও অঞ্চলকে ২৪টি গুরুত্বপূর্ণ সূচকের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হয়। ব্যাংকিং ব্যবস্থা, ব্যবসার অনুকূল পরিবেশ, বিদেশিদের সম্পত্তির অধিকার, জীবনযাত্রার মান, স্বাস্থ্যসেবা, নিরাপত্তা, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং নতুন দেশে বসবাসের সুযোগ—এসব সূচকে উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখিয়েই শীর্ষস্থান দখল করেছে এস্তোনিয়া।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্যাংকিং ও মুদ্রা ব্যবস্থায় এস্তোনিয়া ৯৯, ব্যবসার সুযোগে ৯৬, আবাসনের সামর্থ্যে ৮২, সবুজ পরিবেশে ৮৬ এবং সড়ক নিরাপত্তায় ৭৭ নম্বর অর্জন করেছে। তবে দীর্ঘ ও তীব্র শীতের কারণে জলবায়ু আরামের সূচকে দেশটির স্কোর মাত্র ২০। তবুও অন্যান্য সূচকে অসাধারণ পারফরম্যান্সের কারণে সামগ্রিক মূল্যায়নে শীর্ষস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে দেশটি।
বিশ্বের সেরা ১০টি দেশের তালিকায় এস্তোনিয়ার পর রয়েছে সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, পর্তুগাল, তাইওয়ান, লিথুয়ানিয়া, হংকং, সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস, চেকিয়া এবং মাল্টা। ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে এস্তোনিয়ার পর সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে পর্তুগাল, যা বৈশ্বিক তালিকায় চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে। এছাড়া লিথুয়ানিয়া ষষ্ঠ, চেকিয়া নবম এবং মাল্টা দশম স্থানে জায়গা পেয়েছে।
প্রতিবেদনটিতে বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের জন্য আলাদা র্যাঙ্কিংও প্রকাশ করা হয়েছে। পরিবার নিয়ে বসবাসের জন্যও এস্তোনিয়া বিশ্বের সেরা দেশ হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে। অন্যদিকে, ডিজিটাল নোম্যাডদের জন্য মালয়েশিয়া প্রথম এবং পর্তুগাল দ্বিতীয় সেরা গন্তব্য হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। ফলে উন্নত জীবনযাত্রা, নিরাপদ পরিবেশ, শক্তিশালী অর্থনৈতিক কাঠামো এবং বিদেশিবান্ধব নীতির কারণে এস্তোনিয়া বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম আকর্ষণীয় বসবাসের গন্তব্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।



