ছোটবেলায় শেখা নকশী কাঁথা সেলাইয়ের সুচ-সুতোই যে একদিন জীবনের সবচেয়ে বড় সম্বল হয়ে উঠবে, তা হয়তো কখনো ভাবেননি রুনা বেগম। অপ্রাপ্তবয়সে বিয়ে এবং পড়াশোনা ছেড়ে দেওয়ার বাধ্যবাধকতার পর সংসারের কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয় তাকে। স্বামীর অনিয়মিত উপার্জনের কারণে যখন পরিবার চালানো কষ্টকর হয়ে উঠেছিল, ঠিক তখনই ঘুরে দাঁড়ানোর শক্ত সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
২০০৮ সালে চাচার কাছ থেকে মাত্র ১,০০০ টাকা ধার নিয়ে শুরু হয় তার এই নতুন পথচলা। শৈশবের অর্জিত সেই সেলাই শিল্পকে পুঁজি করে ঘরোয়া পরিবেশেই নকশী কাঁথা তৈরির কাজ শুরু করেন রুনা বেগম। সততা, অদম্য ইচ্ছা আর নিরলস পরিশ্রমের মাধ্যমে ধীরে ধীরে বিস্তার লাভ করতে থাকে তার এই ছোট্ট উদ্যোগ।
আজ প্রায় দুই দশক পর, রুনা বেগমের সেই ক্ষুদ্র উদ্যোগ এক বিশাল সফল ব্যবসায় রূপ নিয়েছে। বর্তমানে সিলেটসহ পুরো বাংলাদেশ এবং দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশেও সমাদৃত হচ্ছে তার হাতে তৈরি নানা স্বাদের নকশী কাঁথা। তার এই বাণিজ্যিক সাফল্য শুধু নিজের পরিবারকেই স্বাবলম্বী করেনি, বরং সমাজের অন্য নারীদের জন্য তৈরি করেছে এক নতুন সম্ভাবনার দুয়ার।
বর্তমানে প্রায় ৪০০ জন নারী রুনা বেগমের এই উদ্যোগের সাথে সরাসরি যুক্ত হয়ে কাজ করছেন। তারা নিজেদের ঘরে বসেই নকশী কাঁথা সেলাই করে আয়ের পথ খুঁজে পেয়েছেন, যা তাদের নিজস্ব পরিবারকে আর্থিকভাবে সহায়তা করার সুযোগ করে দিয়েছে। ১,০০০ টাকার পুঁজি থেকে শুরু হওয়া এই সংগ্রাম আজ চারশত নারীর আত্মনির্ভরশীলতার প্রতীক হয়ে উঠেছে।



