আমরা অনেকেই সিলেটের বিখ্যাত ‘রাতারগুল সোয়াম্প ফরেস্ট’ বা জলাবনের কথা জানি। কিন্তু আপনি কি জানেন, আমাদের পাশেই লুকিয়ে আছে রাতারগুলের চেয়েও বড় এক মায়াবী জলাবন? সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হলো, এই বিশাল বনটি কোনো জঙ্গল বা দুর্গম পাহাড়ের ভেতর নয়, বরং দেশের সবচেয়ে বড় গ্রাম হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে অবস্থিত!
স্থানীয় লোকজনের কাছে এটি ‘খড়তির জঙ্গল’ নামে পরিচিত হলেও, এর আসল নাম ‘লক্ষ্মীবাঁওড় জলাবন’। খড়তি নদীর দক্ষিণে প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার এলাকাজুড়ে গড়ে উঠেছে মিঠাপানির এই প্রাকৃতিক বনের রাজ্য। বর্ষার দিনে এই বনের সৌন্দর্য রূপকথার গল্পকেও হার মানায়। পানির ওপর মাথা তুলে দাঁড়িয়ে থাকা হিজল ও করচ গাছের সারি, আর তাদের ভেসে থাকা অদ্ভুত ডালপালা ও শিকড় দেখলে মনে হবে যেন এক জাদুকরী দুনিয়া। চারিদিকে হরেক রকমের পাখির কিচিরমিচির গান শুনে মুহূর্তেই সব ক্লান্তি দূর হয়ে যায়।
তবে কেবল এই মায়াবী বনই নয়, বানিয়াচং গ্রামে দেখতে পাবেন দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম প্রাচীন দিঘি ‘কমলা রানির দিঘি’। প্রায় ছেষট্টি একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত এই দিঘিটি দেখতে সাগরের মতোই বিশাল। এই দিঘি ঘিরে জড়িয়ে আছে রানি কমলাবতীর আত্মত্যাগের এক করুণ ও মিষ্টি লোককাহিনী। এছাড়া এই গ্রামেই রয়েছে রাজা গোবিন্দ সিংহের ধ্বংসপ্রাপ্ত ঐতিহাসিক রাজবাড়ি, যা ইতিহাসের এক নীরব সাক্ষী হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
বছরের ছয় মাস এই বনে থই থই পানি থাকে, আর বাকি ছয় মাস থাকে একদম শুকনো। তাই বর্ষায় নৌকায় চড়ে এই বনের আসল রূপ দেখতে ঘুরে আসতে পারেন যে কেউ। ঢাকা বা চট্টগ্রাম থেকে খুব সহজেই বাসে কিংবা ট্রেনে হবিগঞ্জ হয়ে চলে যাওয়া যায় এই জলরাজ্যে।
ব্যস্ত জীবনের একঘেয়েমি কাটাতে ছুটির দিনে এমন একটি ঐতিহাসিক ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত জায়গায় ঘুরে আসা সত্যিই এক জাদুকরী অভিজ্ঞতা হতে পারে। প্রকৃতির এই অনন্য উপহার দেখতে চাইলে আর দেরি না করে এখনই ব্যাগ গুছিয়ে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে!



