নওগাঁর পোরশা উপজেলা সদর নিতপুর ইউনিয়নের বাঙ্গালপাড়া গ্রামে মাটির তৈরি তিনতলা একটি বাড়ি প্রায় ৪০ থেকে ৪২ বছর ধরে টিকে আছে। বালুমাটি, বাঁশ, তালের তীর ও ছাউনিতে ঢেউটিন ব্যবহার করে নির্মিত ব্যতিক্রমী এই বাড়িটি এখনো সুরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। আধুনিক নির্মাণসামগ্রীর ব্যবহার ছাড়াই তৈরি বাড়িটি স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে কৌতূহলের বিষয় হয়ে উঠেছে।
বাড়িটির নির্মাতা প্রয়াত শামসুজ্জোহা। তিনি পোরশা উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ে সহকারী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার দুই ছেলে—আতিকুর রহমান সরকার (৩৬) ও বকুল সরকার (২০)। এ ছাড়া তার দুই মেয়ে রয়েছেন। পরিবারের সদস্যদের তথ্য অনুযায়ী, ছয় কক্ষবিশিষ্ট বাড়িটি নির্মাণে সে সময় দেড় লাখ টাকার বেশি ব্যয় হয়েছিল।
পরিবারের সদস্যরা জানান, বাড়িটি প্রথমে দুইতলা নির্মাণ করা হয়েছিল। পরে পাশের এক আত্মীয় তাদের বাড়ির চেয়ে উঁচু ভবন নির্মাণ করায় অভিমান থেকে বাড়িটিকে তিনতলায় উন্নীত করেন শামসুজ্জোহা। এ বিষয়ে বাড়িটির ছোট ছেলে বকুল সরকার বলেন, ‘বাবার কাছে শুনেছি, প্রথমে বাড়িটি দুইতলা ছিল। পরে আমাদের এক আত্মীয় পাশেই আমাদের বাড়ির চেয়ে উঁচু ভবন নির্মাণ করেন। এতে বাবা অভিমান করে বাড়িটির সঙ্গে আরও একটি তলা যুক্ত করে তিনতলা করেন। বাবা জীবিত থাকাকালে এই ছয় কক্ষবিশিষ্ট তিনতলা বাড়িতে বসবাস করতেন।’
বর্তমানে পরিবারের সদস্যসংখ্যা কম হওয়ায় বাড়িটির নিচতলা বেশি ব্যবহার করা হয়। ওপরের দুইতলায় নিয়মিত চলাচল তুলনামূলক কম। তবে প্রায় চার দশক পেরিয়ে গেলেও বাড়িটি এখনো টিকে রয়েছে। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শামসুজ্জোহা ২০১১ সালে মারা যান। তার স্মৃতি বহন করে দাঁড়িয়ে থাকা বাড়িটি এখন পরিবারের কাছে আবেগ ও ঐতিহ্যের অংশ।
গ্রামবাংলার পুরোনো নির্মাণশৈলীর এমন মাটির বাড়ি সচরাচর দেখা যায় না। বাড়িটির নির্মাণকৌশল, ব্যবহৃত উপকরণ এবং দীর্ঘস্থায়িত্বের বিষয়টি স্থানীয় ঐতিহ্যের এক ব্যতিক্রমী নিদর্শন হিসেবে কৌতূহল তৈরি করেছে।



