মা—পৃথিবীর সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়, সবচেয়ে মায়াময় শব্দ। সন্তানের জীবনে প্রথম স্পর্শ, প্রথম ভালোবাসা, প্রথম অনুভূতির নাম মা। তাই মাকে ভালোবাসার জন্য আলাদা কোনো দিনের প্রয়োজন না থাকলেও পৃথিবীর কোটি মানুষ বছরের একটি দিন শুধু মায়ের জন্যই তুলে রেখেছে। আর সেই দিনটিই আজ বিশ্বজুড়ে ‘মা দিবস’ নামে পরিচিত। কিন্তু কবে, কীভাবে আর কার হাত ধরে শুরু হয়েছিল এই বিশেষ দিনটির যাত্রা? এর পেছনে লুকিয়ে আছে ইতিহাস, আবেগ, সংগ্রাম আর এক মেয়ের মায়ের প্রতি অসীম ভালোবাসার গল্প।
মা দিবসের ধারণাটি হুট করে আসেনি। প্রাচীন গ্রিসে প্রতি বসন্তকালে দেবতাদের মা ‘রিয়া’-র উদ্দেশ্যে উৎসব পালন করা হতো। পরবর্তীকালে সপ্তদশ শতকে ব্রিটেনে মে মাসের চতুর্থ রবিবারকে ‘মাদারিং সানডে’ হিসেবে পালন শুরু হয়, যেদিন মানুষ মায়ের সঙ্গে সময় কাটাতেন ও উপহার দিতেন। আধুনিক মা দিবসের গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র অবশ্য অ্যানা জার্ভিস। ১৯০৫ সালে তাঁর মা মারা গেলে অ্যানা মায়ের স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রাখার সংকল্প করেন। তিনি চেয়েছিলেন, বছরের অন্তত একটি দিন যেন পৃথিবীর সব মায়েরা বিশেষ সম্মান ও ভালোবাসা পান।
১৯০৮ সালের ১০ মে পশ্চিম ভার্জিনিয়ার গ্রাফটন শহরের সেই চার্চে—যেখানে তাঁর মা একসময় পড়াতেন—প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে মা দিবস পালন করেন অ্যানা জার্ভিস। তাঁর নিরলস প্রচেষ্টার ফলেই ১৯১৪ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন মে মাসের দ্বিতীয় রোববারকে সরকারি ছুটির দিন ও মা দিবস হিসেবে ঘোষণা করেন। ১৯২০ সালের মধ্যে এই ধারণা বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে এটি কেবল ক্যালেন্ডারের একটি তারিখ নয়, বরং মাতৃত্বের গুরুত্ব ও প্রভাবকে স্বীকৃতি দেওয়ার বৈশ্বিক মঞ্চ।
গবেষণায় দেখা গেছে, বছরের অন্য যেকোনো বিশেষ দিনের তুলনায় মা দিবসেই সবচেয়ে বেশি ফোন কল করা হয়। আজ মা দিবস শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং ভালোবাসা, কৃতজ্ঞতা ও আবেগের এক বৈশ্বিক উৎসব। দামি উপহার কিংবা জমকালো আয়োজনের চেয়েও বড় হয়ে ওঠে একটি বাক্য—‘মা, তোমায় অনেক ভালোবাসি।’



