সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নবম জাতীয় পে স্কেল বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গঠিত সচিব কমিটি তাদের সর্বশেষ সভায় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে এই প্রতিবেদন মন্ত্রিসভায় পেশ করার জন্য অর্থ বিভাগকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে বেতন বৃদ্ধি, বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া, ভাতা কাঠামো এবং পরবর্তী প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সব গ্রেডে সমান হারে বেতন বাড়বে না; বরং নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের মূল বেতন তুলনামূলক বেশি বাড়ানোর সুপারিশ করা হচ্ছে। আগের কমিশনের প্রস্তাব অনুযায়ী মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে—এ বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ ছাড়া ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা বাস্তবায়নে একাধিক বিধিবদ্ধ নিয়ন্ত্রক আদেশ (এসআরও) জারির বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
পে স্কেল বাস্তবায়নে তাড়াহুড়ো করা হবে না; প্রতিটি প্রস্তাবের আর্থিক প্রভাব, প্রশাসনিক সক্ষমতা ও আইনগত দিক যাচাই করেই চূড়ান্ত সুপারিশ তৈরি করা হবে। চলতি জুলাই মাসের শেষ নাগাদ সচিব কমিটি চূড়ান্ত প্রতিবেদন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে জমা দিতে চায়, তার আগে আরও দুটি বৈঠক হবে। ওই বৈঠকগুলোতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মতামত, সরকারের আর্থিক সক্ষমতা, বাস্তবায়ন কৌশল এবং ধাপভিত্তিক কাঠামো নিয়ে আলোচনা হবে।
মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের পর প্রয়োজনে সুপারিশে পরিবর্তন, সংযোজন বা বিয়োজন করা যাবে। এরপর প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন, আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং এবং গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে নবম পে স্কেল কার্যকর হবে। বেসামরিক কর্মচারীদের পাশাপাশি বিচার বিভাগ ও সশস্ত্র বাহিনীর জন্যও পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।
উল্লেখ্য, গত ২১ এপ্রিল ১০ সদস্যের এই সচিব কমিটি গঠন করা হয়, যার সভাপতিত্ব করছেন নাসিমুল গনি। এর আগে জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন নবম জাতীয় বেতন কমিশন বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রেখে বেতন-ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করেছিল।



