ভারতের আকাশসীমায় স্টারলিংকের স্যাটেলাইট বিম বর্তমানে সক্রিয় নয় বলে জানিয়েছেন স্পেসএক্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইলন মাস্ক। এর ফলে ভারতের ভূখণ্ডে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী স্টারলিংক সেবা ব্যবহার করেছে—এমন দাবি তিনি ভিত্তিহীন বলে নাকচ করেছেন। বুধবার (৭ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মাস্ক এ কথা জানান।
এর আগে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে মিয়ানমার সীমান্তের কাছে মণিপুরে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে একটি স্টারলিংক টার্মিনাল উদ্ধারের খবর প্রকাশিত হয়। সেই দাবির প্রেক্ষাপটেই মাস্ক তাঁর বক্তব্য দেন। তিনি স্পষ্ট করেন, ভারতের ওপর স্টারলিংকের স্যাটেলাইট বিম বন্ধ থাকায় দেশটির ভূখণ্ডে সক্রিয় স্টারলিংক সংযোগ থাকার দাবি সঠিক নয়।
এদিকে ভারতে স্টারলিংকের বাণিজ্যিক সেবা চালুতে দীর্ঘসূত্রতা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মাস্ক। তিনি অভিযোগ করেছেন, কিছু প্রভাবশালী ব্যবসায়িক গোষ্ঠী নিজেদের বাজার নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে স্টারলিংকের প্রবেশে বাধা দিচ্ছে। তবে ভারত সরকার এই অভিযোগ নাকচ করে জানিয়েছে, দেশটির স্যাটেলাইট যোগাযোগের নিয়ন্ত্রক কাঠামো বৈষম্যহীন এবং স্টারলিংকসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো একই ধরনের নিয়ন্ত্রক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
অন্যদিকে, ‘ইন্ডিয়া মোবাইল কংগ্রেস ২০২৬’-এ স্টারলিংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট (বিজনেস অপারেশনস) লরেন ড্রেয়ার জানিয়েছেন, ভারতের নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রক কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রতিষ্ঠানটি দেশটির জন্য আলাদা অবকাঠামো ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা তৈরি করেছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ভারতে ইতোমধ্যে ২০টি গেটওয়ে সাইট এবং শত শত অ্যান্টেনাসহ প্রয়োজনীয় স্থলভিত্তিক অবকাঠামো প্রস্তুত করা হয়েছে। ভারতীয় ব্যবহারকারীদের তথ্য দেশেই রাখার ব্যবস্থাও করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
তবে স্টারলিংকের বাণিজ্যিক সেবা এখনো চালু হয়নি। স্পেকট্রাম বরাদ্দ ও চূড়ান্ত নিরাপত্তা অনুমোদনের মতো কিছু প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। স্টারলিংক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এসব অনুমোদন পাওয়ার পর ভারতে সেবা চালুর জন্য তারা প্রস্তুত রয়েছে।



