১৯৯৮ সালে পিরোজপুরের ফল ব্যবসায়ী আব্দুল খালেক শিকদার ব্যবসার প্রসারের জন্য ঢাকার এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ১০,০০০ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। এটি কেবল সাধারণ কোনো আর্থিক লেনদেন ছিল না, বরং তার কাছে এটি ছিল মর্যাদা ও আস্থার বিষয়। দুর্ভাগ্যবশত, ২০১১ সালে ঋণ পরিশোধ করার আগেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন। বাবার এই অসম্পূর্ণ ওয়াদা এবং ঋণের বোঝা যেন তার পরিবারের মনে এক গভীর দায়িত্ববোধ হিসেবে থেকে যায়।
দীর্ঘ ২৮ বছর পর, আব্দুল খালেক শিকদারের ছেলে কাঞ্চন শিকদার বাবার দেওয়া কথা রাখতে এবং তার আত্মাকে ঋণের বোঝা থেকে মুক্ত করতে এক অনন্য উদ্যোগে নেমেছেন। তিনি পিরোজপুর থেকে ছুটে এসেছেন ঢাকায়, শুধুমাত্র সেই পাওনাদারকে খুঁজে বের করার উদ্দেশ্যে। পুরান ঢাকার ওয়াইজঘাট ও তার আশেপাশের এলাকায় ঘুরে ঘুরে তিনি তার বাবার সেই পুরনো ব্যবসায়ীর খোঁজ চালাচ্ছেন।
অসীম ধৈর্য ও প্রচেষ্টার পরও কাঞ্চন এখনও সেই ঋণদাতাকে খুঁজে পাননি। তবুও তার চেষ্টার কোনো কমতি নেই। আজকের সমাজে যেখানে দায়িত্ব এড়িয়ে চলাই সাধারণ বিষয়, সেখানে কাঞ্চন শিকদারের এই বিরল দৃষ্টান্ত ও সততা সবার হৃদয় ছুঁয়ে গেছে। বাবার প্রতি সন্তানের এই ভালোবাসা এবং নৈতিকতার নিদর্শন আমাদের শেখায় যে, সততা ও ওয়াদা রক্ষার মূল্য কতখানি গভীর হতে পারে।



