টানা তৃতীয়বারের মতো সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপার স্বপ্ন দেখেছিল বাংলাদেশের মেয়েরা। কিন্তু গোয়ায় আজ অনুষ্ঠিত ফাইনালে ভারতের কাছে ৩–১ গোলে হেরে সেই স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে। এই জয়ের মধ্য দিয়ে সাফে ষষ্ঠবারের মতো চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করল ভারত। অন্যদিকে বাংলাদেশ গত দুই আসরে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হলেও এবার শুরু থেকেই ছিল দুর্বল। গ্রুপ পর্বে ভারতের বিপক্ষে ৩-০ গোলে হেরেছিল তারা, ফাইনালেও একই ব্যবধানে তিন গোল হজম করতে হয়েছে। বিপরীতে ঋতুপর্ণা একটি গোল করে কিছুটা হলেও ব্যবধান কমিয়েছেন।
ব্রিটিশ কোচ পিটার বাটলারের দলের অন্যতম সমস্যা গোলকিপিং ও ডিফেন্স—ফাইনালে সেটিই ভুগিয়েছে বাংলাদেশকে। তিনটি গোলের মধ্যে দুটির পেছনে গোলরক্ষক মিলি আক্তারের ভুল ছিল, আরেকটির দায় ছিল ডিফেন্ডার আফিদা খন্দকারের। ভারতের ফরোয়ার্ডদের চেয়ে বাংলাদেশের ব্যর্থতাই বেশি দেখা গেছে এই ম্যাচে। প্রথমার্ধের ইনজুরি সময়ে ঋতুপর্ণা দারুণ কোনাকুনি শটে গোল করে দলকে সমতা এনে দিয়েছিলেন। নেপাল ম্যাচেও ঋতুপর্ণার অলিম্পিক গোলে বাংলাদেশ প্রাণ ফিরে পেয়েছিল, কিন্তু ভারতের বিপক্ষে সেটি আর কাজে আসেনি।
ম্যাচের ৪২ মিনিটে ভারত প্রথম গোল পায়। পিয়ারী সাহার কৃতিত্বের চেয়ে বাংলাদেশের গোলরক্ষক মিলি আক্তারের ভুলে ভারত এগিয়ে যায়। একটি সাধারণ আক্রমণে মিলি পোস্ট থেকে সামনে বেরিয়ে এলে পিয়ারী বক্সের বাইরে এক ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে মিলির মাথার ওপর দিয়ে বল উঠিয়ে দেন; মিলি পেছন ফিরে তাড়া করলেও গোল বাঁচাতে পারেননি। মিনিট পাঁচেক পর ইনজুরি সময়ে ঋতুপর্ণার গোলে সমতা ফেরে। তবে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই আবার পিছিয়ে পড়ে বাংলাদেশ। ৪৯ মিনিটে কর্নার থেকে বক্সের মধ্যে লাফিয়ে হেড করেন ভারতের সানফিদা; বাংলাদেশের ডিফেন্ডাররা তাকে ব্লক করতে পারেননি এবং গোলরক্ষক মিলি ঝাপিয়েও পড়লে বল সাইড পোস্টে লেগে জালে জড়ায়।
দ্বিতীয় দফায় পিছিয়ে পড়ে বাংলাদেশ সমতা ফেরানোর চেষ্টা চালায়, তবে ঋতুপর্ণার ওপর নির্ভর করলেও তিনি এই অর্ধে তেমন কোনো আক্রমণ করতে পারেননি। বাংলাদেশ এই অর্ধে ভালো ফুটবল খেলতে পারেনি। উল্টো ৮২ মিনিটে ডিফেন্ডার আফিদা খন্দকার বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে ভারতের ফরোয়ার্ডের পায়ে লেগে আরেক ফরোয়ার্ড কম বল পান, যিনি শট নিয়ে জালে বল জড়ালে ভারতের শিরোপা অনেকটাই নিশ্চিত হয়। শেষ পর্যন্ত ৩-১ গোলে হেরে টানা তৃতীয় শিরোপার স্বপ্ন অধরাই থেকে গেল বাংলাদেশের মেয়েদের।



