দীর্ঘদিন ধরে নিখরচায় ব্যবহারকারীদের হাতের মুঠোয় ছিল ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ ও ইনস্টাগ্রাম—এই প্ল্যাটফর্মগুলো যোগাযোগ, বিনোদন ও পেশাগত কাজকে সহজ করে তুলেছিল। কিন্তু এখন থেকে এই পরিষেবাগুলো ব্যবহার করতে চাইলে গুণতে হবে টাকা। মার্কিন ধনকুবের মার্ক জাকারবার্গের সংস্থা মেটা সম্প্রতি ফেসবুক প্লাস, ইনস্টাগ্রাম প্লাস ও হোয়াটসঅ্যাপ প্লাস নামে সাবস্ক্রিপশন প্ল্যান চালু করেছে, যার প্রত্যেকটির মাসিক খরচ ৯৯ টাকা। পাশাপাশি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, কনটেন্ট নির্মাতা এবং মেটা এআই ব্যবহারকারীদের জন্য এআই চ্যাটবট ও আপগ্রেডেড টিয়ার্স আনা হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এআই খাতে ক্রমবর্ধমান ব্যয় মেটাতেই এই পদক্ষেপ জরুরি হয়ে পড়েছে। জাকারবার্গ প্রতিযোগীদের তুলনায় এআই জগতে অনেকটাই পিছিয়ে রয়েছেন এবং বর্তমানে সেই স্থান পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছেন। টেক আর্কের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান বিশ্লেষক ফয়সাল কাওসা এনডিটিভিকে জানান, মেটা এআই অবকাঠামোতে ১২৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছে, যা সার্থক করতে তাদের একটি পূর্বাভাসযোগ্য ও সামঞ্জস্যপূর্ণ আয়ের উৎস দরকার। শুধু বিজ্ঞাপন থেকে প্রাপ্ত আয় দিয়ে এটি পূরণ করা সম্ভব নয়, বিশেষত এআই আসার পর কন্টেন্ট খোঁজার ও ব্যবহারের ধরন বদলে যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, মেটা মাইক্রোসফট বা গুগলের মতো বড় কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর আস্থা অর্জন করতে পারেনি, ফলে তাদের বাণিজ্যিক উপস্থিতিও তেমন সাড়া ফেলতে পারেনি। বিনামূল্যে অভ্যস্ত ব্যবহারকারীদের কাছে এটি নেতিবাচক মনে হতে পারে।
ট্রুইস্ট সিকিউরিটিজের ধারণা, ২০৩০ সাল নাগাদ সাবস্ক্রিপশন থেকে বছরে মেটার ২০ বিলিয়ন ডলার বাড়তি আয় হতে পারে। অন্যদিকে ডয়চে ব্যাংকের বরাত দিয়ে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, আগামী বছর সাবস্ক্রিপশন থেকে ১৫ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার আয় হতে পারে, যদিও অনেক বিশ্লেষক এই উচ্চাভিলাষী হিসাব নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। মেটা জানিয়েছে, গত বছর সংস্থাটির মোট আয়ের ৯৭.৬ শতাংশ বিজ্ঞাপন থেকেই এসেছিল, অর্থাৎ দুই দশকেও তারা বিজ্ঞাপনের বাইরে ব্যবসা বিস্তৃত করতে পারেনি। অন্যদিকে গুগল বিজ্ঞাপননির্ভর হলেও ১০ বছর আগে বিজ্ঞাপনের বাইরে যা আয় করত, মেটা গত বছরও সেই পরিমাণ আয় করতে পারেনি—যা জাকারবার্গকে এই সাবস্ক্রিপশনমুখী তৎপরতায় ঝুঁকতে বাধ্য করেছে।
এআই বিশেষজ্ঞ ও এআইএনসিউর্ডের সিটিও শ্রীনিবাস পদ্মনাভুনী মনে করেন, মেটার এ পদক্ষেপ মূলত সাময়িক জোড়াতালি দেওয়ার শামিল। তিনি বলেন, পেইড প্ল্যানগুলো দেখে বোঝা যায় তারা এআইতে নিজেদের বিশাল বিনিয়োগ তুলে আনতে চেষ্টা করছে, আর সেজন্য নিয়মিত ব্যবহারকারীদের কিছু বাড়তি সুবিধা দিয়ে টাকা আদায়ে মরিয়া হয়ে উঠেছে।
তথ্যসূত্র: এনডিটিভি



