গোটা ফুটবল দুনিয়ার ভক্ত-অনুরাগীদের বাড়তি নজর ছিল ব্রাজিলের দল ঘোষণায়। মন্টেভিডিওর সেই অভিশপ্ত রাতের পর দীর্ঘ আড়াই বছরের যন্ত্রণা, মাঠের বাইরের সমালোচনা আর অন্তহীন অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে, সব প্রতিকূলতা পেরিয়ে ২০২৬ হেক্সা মিশনের চূড়ান্ত স্কোয়াডে জায়গা করে নিয়েছেন নেইমার জুনিয়র।
সোমবার বাংলাদেশ সময় গভীর রাতে যখন কোচ আনচেলত্তি নেইমারের নাম উচ্চারণ করেন, তখন রিও ডি জেনিরোর ‘মিউজিয়াম অব টুমরো’র পুরো মিলনায়তন উল্লাসে ফেটে পড়ে। স্বস্তি ফিরে আসে গোটা বিশ্বের নেইমার ভক্তদের হৃদয়ে। ছেলের এই রাজকীয় প্রত্যাবর্তনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন নেইমারের বাবাও। তিনি লিখেছেন, “বাবা, ইনজুরির পর থেকে যে ব্যথা ও সংশয় আমাদের তাড়া করে বেরিয়েছে, সেটা নিয়ে আমি লিখতে পারতাম। এই পুরো সময়টায় নীরব থেকে আমাদের যা পড়তে ও শুনতে হয়েছে, সেটাও স্মরণ করতে পারতাম। কিন্তু আজ খুশির দিন। আমার মনের মধ্যে কেবল একটি ব্যাপার খেলা করছে—তুমি যেখানেই গিয়েছ, সেখানেই তোমার নাম ধরে শিশুরা আনন্দে চিৎকার করেছে। এই মুহূর্তটার জন্য কত দীর্ঘ অপেক্ষা আর কঠোর পরিশ্রম করেছ, আমরা সেটা জানি। এই যাত্রায় সব যন্ত্রণা, সংশয় ও নীরবতা সঙ্গে ছিল। কিন্তু ঈশ্বর আমাদের সাহায্য করেছেন। অভিনন্দন, বাবা, আরেকটি বিশ্বকাপের জন্য আমি তোমার সঙ্গী থাকব।”
ব্রাজিলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৭৯টি আন্তর্জাতিক গোল করা নেইমার শেষবার দেশের জার্সিতে মাঠে নেমেছিলেন ২০২৩ সালের ১৭ অক্টোবর। উরুগুয়ের বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাইয়ের সেই ম্যাচে ২-০ গোলে হেরেছিল ব্রাজিল। সেদিনই বাঁ হাঁটুর এসিএল ইনজুরি নিয়ে মাঠ ছেড়েছিলেন তিনি। এরপর দীর্ঘ আড়াই বছর জাতীয় দলের বাইরে থাকতে হয়েছে তাকে। আনচেলত্তি সেলেসাওদের দায়িত্ব নেওয়ার পর এই প্রথম দলে ডাক পেলেন নেইমার। ফুটবল বিশ্লেষকদের ধারণা, নেইমারের ডাক পাওয়ায় যেন পূর্ণতা পেল ব্রাজিলের বিশ্বকাপ স্কোয়াড। এখন অপেক্ষা শুধু ব্রাজিলের ‘হেক্সা’ জয়ের। আনচেলত্তির দল কি পারবে দীর্ঘ দুই যুগের অপেক্ষা ঘুচাতে? তার উত্তর বলতে পারে কেবল সময়ই।



