ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর পর্দা নামতে বাকি আর মাত্র একটি ম্যাচ। আগামী রোববার নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে বহুল প্রতীক্ষিত ফাইনাল, যেখানে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা মুখোমুখি হবে ইউরোপের শক্তিশালী দল স্পেনের। শিরোপা নির্ধারণী এই লড়াইকে ঘিরে ফুটবলপ্রেমীদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি। শুধু আরেকটি বিশ্বকাপ জয়ের সম্ভাবনাই নয়, এই ম্যাচে মাঠে নামলেই তার সামনে খুলে যাবে এক ডজন ঐতিহাসিক রেকর্ড গড়ার সুযোগ।
৩৯ বছর ২৫ দিন বয়সে ফাইনালে খেলতে নামলে মেসি ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি বয়সী ‘আউটফিল্ড’ খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপ ফাইনালে অংশ নেওয়ার কীর্তি গড়বেন। একই সঙ্গে তিনি হয়ে উঠবেন মাত্র দ্বিতীয় ফুটবলার, যিনি তিনটি ভিন্ন বিশ্বকাপের ফাইনালে (২০১৪, ২০২২ ও ২০২৬) খেলবেন। এর আগে এই কীর্তি ছিল শুধু ব্রাজিলের কিংবদন্তি ডিফেন্ডার কাফুর দখলে। তবে মেসি আরও একটি অনন্য রেকর্ড গড়তে যাচ্ছেন—বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথম অধিনায়ক হিসেবে তিনটি ভিন্ন ফাইনালে নিজের দেশকে নেতৃত্ব দেবেন তিনি।
ফাইনালে আর্জেন্টিনা জয়ী হলে এবং মেসি দলকে নেতৃত্ব দিয়ে ট্রফি উঁচিয়ে ধরতে পারলে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো ফুটবলার অধিনায়ক হিসেবে দুটি বিশ্বকাপ জয়ের কীর্তি গড়বেন। এর আগে পাসারেলা, মেজ্জা কিংবা কাফুর মতো কিংবদন্তিরাও অধিনায়ক হিসেবে একবারের বেশি বিশ্বকাপ জিততে পারেননি।
ব্যক্তিগত অর্জনের দিক থেকেও মেসির সামনে রয়েছে একাধিক মাইলফলক। চলতি বিশ্বকাপে ইতোমধ্যে ৮ গোল করে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে শীর্ষে আছেন তিনি। ফাইনালে একটি গোল করলেই বিশ্বকাপ ফাইনালের ইতিহাসে সবচেয়ে বয়স্ক গোলদাতা হওয়ার রেকর্ড নিজের করে নেবেন। পাশাপাশি এক আসরে কোনো আর্জেন্টাইন ফুটবলারের সর্বাধিক গোলের রেকর্ডও ভেঙে ফেলবেন।
যদি ফাইনালে জোড়া গোল করতে পারেন, তাহলে মেসি বিশ্বকাপের এক আসরে ১০ গোলের মাইলফলকে পৌঁছে যাবেন। ইতিহাসে মাত্র তিনজন ফুটবলার এর আগে এই কীর্তি গড়তে পেরেছেন। একই সঙ্গে তিনি বিশ্বকাপের দুটি ভিন্ন ফাইনালে গোল করা খেলোয়াড়দের বিশেষ তালিকায় নিজের নাম আরও উজ্জ্বলভাবে লিখবেন।
আর যদি ফুটবলভক্তদের স্বপ্ন পূরণ করে ফাইনালে হ্যাটট্রিক করতে পারেন, তাহলে বিশ্বকাপ ফাইনালে সর্বাধিক গোলের নতুন ইতিহাস গড়বেন মেসি। সেই সঙ্গে জিওফ হার্স্ট ও কিলিয়ান এমাপ্পের পর তৃতীয় ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপ ফাইনালে হ্যাটট্রিকের বিরল কীর্তিও স্পর্শ করবেন তিনি।
মেসির ব্যক্তিগত রেকর্ডের পাশাপাশি আর্জেন্টিনাও দাঁড়িয়ে আছে এক ঐতিহাসিক অর্জনের সামনে। স্পেনকে হারাতে পারলে ইতালি ও ব্রাজিলের পর তৃতীয় দেশ হিসেবে টানা দুই বিশ্বকাপ জয়ের কীর্তি গড়বে আলবিসেলেস্তেরা। আর সেই সাফল্যের মধ্য দিয়ে মেসি হয়ে উঠবেন বিশ্বকাপ ট্রফি ধরে রাখা ইতিহাসের সবচেয়ে বয়স্ক ফুটবলার।
সব মিলিয়ে, আসন্ন ফাইনালটি শুধু একটি শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচ নয়; এটি লিওনেল মেসির বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের সম্ভাব্য সবচেয়ে মহাকাব্যিক অধ্যায়। ফুটবল বিশ্ব এখন অপেক্ষা করছে—আরেকবার কি জাদু দেখাবেন মেসি, নাকি নতুন ইতিহাস লিখবে স্পেন? উত্তর মিলবে বিশ্বকাপের মহারণে।



