দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে রান্নার কাজে ব্যবহৃত ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম সবচেয়ে বেশি। প্রতিবেশী দেশগুলোর বাজারদরের সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, এ অঞ্চলে রান্নার গ্যাস কিনতে সবচেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে বাংলাদেশের ভোক্তাদের। এতে জীবনযাত্রার বাড়তি ব্যয়ের চাপে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে মধ্যবিত্ত পরিবারের বাজেটে বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দামের তালিকায় দক্ষিণ এশিয়ায় শীর্ষে রয়েছে বাংলাদেশ। বর্তমানে দেশে ১২ কেজি বেসরকারি এলপিজি সিলিন্ডারের নির্ধারিত দাম ২ হাজার ৬০ টাকা। তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা পাকিস্তানে সমপরিমাণ সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৪৮৮ টাকা। শ্রীলঙ্কা ও নেপালে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম যথাক্রমে ১ হাজার ৩৯২ টাকা। অন্যদিকে, ভারতের কলকাতা বাজারে ১২ কেজি সমপরিমাণ এলপিজির দাম প্রায় ১ হাজার ৮৮ টাকা।
বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারের দোহাই দেওয়া হলেও প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের এলপিজির দামের বড় ব্যবধান দেশের বাজারে তদারকির দুর্বলতা ও আমদানিনির্ভর ব্যবস্থাপনার সীমাবদ্ধতাকে সামনে আনছে।
এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি এম শামসুল আলম। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির দাম কমলেও দেশের ভোক্তারা এর সুফল পান না। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনও (বিইআরসি) দ্রুত দেশের বাজারে দাম বাড়িয়ে দেয়। সরকারিভাবে এলপিজির যে দাম নির্ধারণ করা হয়, তা অনেক ক্ষেত্রে কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ থাকে; খুচরা বাজারে নির্ধারিত দামে সিলিন্ডার পাওয়া যায় না।
তিনি আরও বলেন, বিইআরসি ও জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের তদারকির ঘাটতি এবং আমদানিকারকদের সিন্ডিকেটের কারণে সাধারণ মানুষকে বাড়তি দামে গ্যাস কিনতে হচ্ছে।
এলপিজির উচ্চমূল্যের কারণে খেটে খাওয়া মানুষ থেকে শুরু করে মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোও আর্থিক চাপে পড়ছে। এ পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক বাজার ও প্রতিবেশী দেশগুলোর দামের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এলপিজির মূল্য পুনর্বিবেচনা এবং বাজার তদারকি জোরদারের দাবি জানিয়েছেন ভোক্তারা।



