ছোট্ট জীবনে কতই না স্বপ্ন ছিল ১৩ বছরের অপ্রতীমের। কৈশোরের দুরন্ত সময়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে মায়ের আইফোন হাতে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল সে। হয়তো চোখজুড়ে ছিল নতুন কোনো ছবি তোলার আনন্দ, বন্ধুদের সঙ্গে কাটানোর অপেক্ষায় ছিল কয়েকটি হাসির মুহূর্ত। কিন্তু কে জানত, সেই বেরিয়ে যাওয়াই হবে তার জীবনের শেষ যাত্রা!
একমাত্র সন্তানকে ফিরে পাওয়ার আশায় রাতভর উৎকণ্ঠায় থাকা মা-বাবার অপেক্ষার অবসান হয়েছে ঠিকই, তবে সেই অপেক্ষার শেষে এসেছে সন্তানের নিথর দেহ। ফুটে ওঠার আগেই অপ্রতীম নামের আরেকটি সম্ভাবনাময় জীবন নির্মমভাবে ঝরে গেল। একটি পরিবার হারাল তাদের একমাত্র সন্তান, ভালোবাসা ও স্বপ্নের কেন্দ্রবিন্দুকে।
অপ্রতীম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে। গতকাল বিকেলে কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকার বাসা থেকে মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বের হয়ে নিখোঁজ হয় সে। সন্ধ্যা পেরিয়ে রাত, রাত পেরিয়ে উৎকণ্ঠা—কিন্তু সন্তানের কোনো সন্ধান পাননি মা-বাবা। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার ম্যাজিক প্যারাডাইস সংলগ্ন পশ্চিম সানন্দা এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
অপ্রতীম কুমিল্লা বর্ডারগার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। পরিবারের একমাত্র সন্তান হিসেবে মা-বাবার কাছে সে ছিল স্বপ্ন, ভালোবাসা ও আশার প্রতীক। তার এমন আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে নেমে এসেছে গভীর শোক।
ছেলে নিখোঁজ হওয়ার পর অপ্রতীমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। ছেলেকে খুঁজে পেতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সহায়তা চান তার মা ড. নাহিদা বেগম। ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, বিকেল ৩টা থেকে তিনি ছেলেকে খুঁজে পাচ্ছেন না। ১৩ বছর বয়সী অপ্রতীম সপ্তম শ্রেণিতে পড়ত এবং নিখোঁজের সময় তার পরনে ছিল একটি পাঞ্জাবি। মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বের হওয়ার পর আর বাড়ি ফেরেনি সে। ছেলেকে খুঁজে পেতে সবার সহযোগিতা কামনা করেন তিনি এবং জানান, বিষয়টি থানায় অবহিত করা হয়েছে।
আরেকটি পোস্টে ড. নাহিদা বেগম জানান, অপ্রতীমের নম্বর ট্র্যাক করেও তার অবস্থান শনাক্ত করা যায়নি। ফোনটি সম্ভবত তার সঙ্গে ছিল না। তার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট যে ফোনে চালু ছিল, সেটিও সে বাসায় রেখে গিয়েছিল বলে জানান তিনি।
কৈশোরের যে ফুলটি কেবল ফুটতে শুরু করেছিল, পাপড়ি মেলবার আগেই ঝরে গেল। অপ্রতীমের চলে যাওয়া তার পরিবারের জন্য শুধু একজন সন্তানকে হারানো নয়, বরং একটি ভবিষ্যৎ, অসংখ্য স্বপ্ন এবং অপূর্ণ সম্ভাবনারও অবসান।



