বিশ্বজুড়ে মেমোরি চিপ বা র্যামের সংকটের মধ্যেই ট্রাম্প মোবাইলের ‘টি১’ স্মার্টফোনের দাম এক লাফে ২৫০ ডলার বেড়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ছাড়াই ফোনটির দাম ৪৯৯ ডলার থেকে বাড়িয়ে ৭৪৯ ডলার করা হয়েছে। নতুন এই দাম অ্যাপলের তুলনামূলক সাশ্রয়ী আইফোন ১৭ই-এর চেয়েও বেশি।
প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট দ্য ভার্জ প্রথম ফোনটির দাম বাড়ানোর বিষয়টি প্রকাশ করে। পরে এনগ্যাজেটও জানায়, কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ছাড়াই ট্রাম্প মোবাইলের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে টি১ ফোনের নতুন দাম যুক্ত করা হয়েছে। তবে হঠাৎ করে দাম বাড়ানোর কারণ সম্পর্কে কোম্পানিটির পক্ষ থেকে এখনো কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যাপক প্রসারের কারণে বিশ্বজুড়ে ইলেকট্রনিক্স শিল্পে মেমোরি চিপের সংকট তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা এই পরিস্থিতিকে ‘র্যাম্যাগেডন’ নামে অভিহিত করছেন। মেমোরি চিপের এই সংকট থেকে প্রযুক্তি খাতের কোনো প্রতিষ্ঠানই পুরোপুরি সুরক্ষিত নয় বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এ ক্ষেত্রে অ্যাপলের সাম্প্রতিক মূল্যবৃদ্ধিকেও উদাহরণ হিসেবে দেখানো হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি তাদের পুরোনো আইফোন মডেলগুলোর দাম ১০০ ডলার পর্যন্ত বাড়িয়েছে। এর আগে মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে আইপ্যাডের দাম সর্বোচ্চ ২০০ ডলার, ম্যাকবুকের দাম ৫০০ ডলার এবং ম্যাক স্টুডিও কম্পিউটারের দাম সর্বোচ্চ ১ হাজার ৩০০ ডলার পর্যন্ত বাড়িয়েছিল অ্যাপল।
ট্রাম্প মোবাইলের টি১ ফোনের আগের ৪৯৯ ডলারের দাম নিয়েও শুরু থেকেই নানা প্রশ্ন ছিল। কোম্পানিটির শীর্ষ নির্বাহীরা জানিয়েছিলেন, ৪৯৯ ডলারের দামটি ছিল প্রাথমিক অফার। ভবিষ্যতে ফোনটির দাম বেড়ে ৯৯৯ ডলার পর্যন্ত হতে পারে বলেও তারা ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।
এদিকে টি১ ফোনটির উৎপাদন ও প্রকৃত উৎস নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট iFixit-এর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ট্রাম্প মোবাইলের বক্তব্য অনুযায়ী ফোনটি যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি নয়। বরং এটি HTC-এর তৈরি একটি হ্যান্ডসেটের সামান্য পরিবর্তিত সংস্করণ বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সূত্র: সিনেট নিউজ



