প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্র ফিজিতে মেথামফেটামিন বা আইস জাতীয় সুই-ভিত্তিক মাদকের ব্যবহার বৃদ্ধি ও অনিরাপদ জীবনযাত্রার কারণে এইচআইভি (HIV) সংক্রামণ আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সম্প্রতি দেশের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে ‘জাতীয় সংকট’ ঘোষণা করেছে। তথ্যমতে, ২০১৯ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে সেখানে নতুন রোগী শনাক্তের হার প্রায় ১৬ গুণ বেড়েছে, যার ফলে বিশ্বব্যাপী সংক্রামণ কমার প্রবণতার বিপরীতে ফিজিতে বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে দ্রুতগতির এইচআইভি প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে।
ইউএনএইচআইভি (UNAIDS) ও আন্তর্জাতিক সংস্থার তথ্য মতে, ফিজিতে প্রায় ৯,১০০ জন রোগী এইচআইভি নিয়ে বসবাস করছেন, যার অর্থ দেশটির প্রতি ৬০ জন প্রাপ্তবয়স্কের ১ জন এই ভাইরাসে আক্রান্ত। তবে এর মধ্যে মাত্র ৩৯ শতাংশ মানুষ তাদের আক্রান্ত হওয়ার কথা জানেন এবং মাত্র ২২ শতাংশ রোগী জীবন রক্ষাকারী অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল চিকিৎসা (ART) পাচ্ছেন। এছাড়া গর্ভবতী মায়েদের আক্রান্ত হওয়ার হার বেড়ে ১:৫০ এ পৌঁছানোয় মা থেকে সন্তানে ভাইরাস ছড়ানোর হার বেড়েছে; গত বছর ৫৯টি শিশু এইচআইভি পজিটিভ নিয়ে জন্ম নেয় এবং ইতোমধ্যে ১৮টি শিশু প্রাণ হারিয়েছে।
জরুরি এ সংকট সামাল দিতে ফিজি সরকার দ্রুত বিনামূল্যে, স্বেচ্ছায় এবং পরিচয় গোপন রেখে সারাদেশে স্ক্রিনিং ও ল্যাব পরীক্ষার উদ্যোগ নিয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) সহযোগিতায় ইনজেকশনের মাধ্যমে মাদক গ্রহণকারীদের সংক্রমণ ঠেকাতে সুই-সিরিঞ্জ কর্মসূচির (Harm Reduction Strategy) পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে দ্রুত প্রতিরোধমূলক ওষুধ (PrEP) পৌঁছানোর সমন্বিত পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।



