কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির ক্রমবর্ধমান সক্ষমতা ও সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে নিজেদের এআই ব্যবস্থার নিরাপত্তা ও ঝুঁকি মূল্যায়নে স্বাধীন গবেষকদের সরাসরি কাজ করার সুযোগ দিচ্ছে মার্কিন এআই কোম্পানি অ্যানথ্রপিক। নিজেদের সিদ্ধান্ত ও কার্যক্রমে জনসাধারণের কাছে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এআই মূল্যায়নকারী গবেষণা প্রতিষ্ঠান মেটরের গবেষকদের অ্যানথ্রপিকের অভ্যন্তরীণ প্রযুক্তি ও সিস্টেমে প্রবেশাধিকার দেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে মেটরের ছয়জন গবেষককে অ্যানথ্রপিকের কার্যালয়ে কাজের ব্যবস্থা এবং প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের মতো অভ্যন্তরীণ প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। অ্যানথ্রপিকের কর্মীদেরও গবেষকদের সঙ্গে সহকর্মীর মতো প্রয়োজনীয় তথ্য ভাগ করে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অ্যানথ্রপিকের সিস্টেম পর্যালোচনা করে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মেটরের গবেষকেরা একটি স্বাধীন মূল্যায়ন প্রতিবেদন প্রকাশ করবেন। এতে অ্যানথ্রপিকের এআই ব্যবস্থার সম্ভাব্য ঝুঁকি ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিষয়গুলো তুলে ধরা হবে। প্রতিবেদন প্রকাশ বন্ধ করার ক্ষমতা অ্যানথ্রপিকের থাকবে না। তবে গ্রাহকের গোপনীয় তথ্য ও স্পর্শকাতর উপাত্ত যেন প্রকাশ না পায়, সে বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটি আপত্তি জানাতে পারবে।
মেটর ছাড়াও বিভিন্ন গবেষণা ও নিরাপত্তা সংস্থার সঙ্গে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে কাজ করছে অ্যানথ্রপিক। এর অংশ হিসেবে সিকিউরবায়োর সঙ্গে একটি বিশেষ প্রকল্পে যুক্ত হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এই প্রকল্পে মূল্যায়ন করা হচ্ছে, অ্যানথ্রপিকের এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে কেউ রাসায়নিক বা জৈব অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করতে পারে কি না এবং এ প্রযুক্তি নতুন কোনো নিরাপত্তাঝুঁকি সৃষ্টি করছে কি না।
শক্তিশালী এআই ব্যবস্থার দ্রুত উন্নয়ন নিয়ে প্রযুক্তি গবেষক ও নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগের মধ্যে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাঁদের আশঙ্কা, এআইয়ের সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা যথেষ্ট কার্যকর কি না, তা নিশ্চিত করা জরুরি। এ কারণে এআই কোম্পানিগুলোর কার্যক্রমে আরও স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়ে আসছেন বিভিন্ন দেশের সরকার, গবেষক ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো।
অ্যানথ্রপিকের ভাষ্য, গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল সব তথ্য প্রকাশ্যে আনা সম্ভব নয়। কারণ, এসব তথ্যের অপব্যবহার হতে পারে কিংবা প্রতিষ্ঠানের বাণিজ্যিক গোপনীয়তা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা রক্ষার পাশাপাশি স্বাধীন গবেষকদের এমন পর্যায়ে প্রবেশাধিকার দেওয়ার চেষ্টা করছে তারা, যাতে বাইরের বিশেষজ্ঞরাও প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব গবেষকদের মতো প্রযুক্তির ঝুঁকি মূল্যায়ন করতে পারেন। অ্যানথ্রপিক জানিয়েছে, উন্নত এআই তৈরি করা কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রযুক্তি সম্পর্কে অভ্যন্তরীণ জ্ঞান ও বাইরের মূল্যায়নকারীদের বোঝাপড়ার মধ্যে ব্যবধান কমানোই তাদের লক্ষ্য।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, অ্যানথ্রপিকের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন ইলন মাস্ক। তাঁর কোম্পানি স্পেসএক্সও ভবিষ্যতে একই ধরনের পদক্ষেপ নিতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মাস্ক জানান, স্পেসএক্সও সম্ভবত এ ধরনের উদ্যোগ নেবে। তবে কী পদ্ধতিতে বা কোন কাঠামোর অধীনে এ কার্যক্রম পরিচালিত হবে, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত জানাননি।



