প্রতি বছর ১৪ জুন পালিত হয় বিশ্ব গোসল দিবস (ইন্টারন্যাশনাল বাথ ডে)। দিবসটি শুধু পরিচ্ছন্নতার গুরুত্বই তুলে ধরে না, বরং গোসলকে শেখা, আবিষ্কার এবং সৃজনশীল চিন্তার মাধ্যম হিসেবেও উদযাপন করে। দিবসটির ইতিহাস প্রায় দুই হাজার বছর আগের, যা জড়িয়ে আছে প্রাচীন গ্রিসের কিংবদন্তি গণিতবিদ ও বিজ্ঞানী আর্কিমিডিসের সঙ্গে।
কাহিনি অনুযায়ী, একদিন গোসল করার সময় আর্কিমিডিস লক্ষ্য করেন, পানিতে নামার সঙ্গে সঙ্গে পানির স্তর বেড়ে যাচ্ছে। তখনই তিনি বুঝতে পারেন, কোনো বস্তু পানিতে নিমজ্জিত হলে সেটি নিজের আয়তনের সমপরিমাণ পানি স্থানচ্যুত করে। এই আবিষ্কারে এতটাই উচ্ছ্বসিত হন তিনি যে, গোসলের টব থেকে বের হয়ে ‘ইউরেকা! ইউরেকা!’ (আমি খুঁজে পেয়েছি) বলে চিৎকার করতে করতে রাস্তায় ছুটে যান।
কিংবদন্তি অনুসারে, গ্রীষ্মের শুরুর এক সপ্তাহ আগে এই ঘটনা ঘটেছিল। প্রাচীন গ্রিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী গ্রীষ্ম শুরু হতো ২১ জুন, তাই ১৪ জুনকে আর্কিমিডিসের আবিষ্কারের দিন হিসেবে ধরা হয়। ২০১৬ সালে ন্যাশনাল ডে ক্যালেন্ডার কর্তৃপক্ষ দিনটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে বার্ষিক দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
গবেষণায় দেখা গেছে, গোসলের সময় শরীর ও মন কিছুটা প্রশান্ত থাকে, ফলে মস্তিষ্ক তুলনামূলক বেশি সৃজনশীলভাবে কাজ করে। অনেকের মাথায় নতুন চিন্তা বা সমস্যার সমাধান আসে গোসলের সময়। আধুনিক জীবনে গোসল শুধু পরিচ্ছন্নতার জন্য নয়, মানসিক স্বস্তি ও ক্লান্তি দূর করারও কার্যকর উপায়। বিশ্ব গোসল দিবস তাই পরিচ্ছন্নতা, সুস্থতা এবং বিজ্ঞানের ইতিহাসের এক স্মরণীয় ঘটনার কথাও মনে করিয়ে দেয়।



