মোটরসাইকেলের সামনের নম্বরপ্লেটের প্রচলিত নকশা ও আকারের বাধ্যবাধকতায় পরিবর্তন এনেছে সরকার। এখন থেকে মোটরসাইকেলের মডেল ও সামনের অংশের কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নম্বরপ্লেটের আকার, নকশা এবং নম্বর লেখার বিন্যাস পরিবর্তনের সুযোগ থাকবে। এমনকি প্রচলিত দুই লাইনের পরিবর্তে এক লাইনেও রেজিস্ট্রেশন নম্বর প্রদর্শন করা যাবে। এ জন্য সংশোধন করা হয়েছে সড়ক পরিবহন বিধিমালা, ২০২২।
সরকারের এ সিদ্ধান্তের ফলে বিভিন্ন মডেলের মোটরসাইকেলে সামনের নম্বরপ্লেট স্থাপনের জটিলতা কমবে বলে মনে করা হচ্ছে। পাশাপাশি নম্বরপ্লেটের দৃশ্যমানতা বাড়ানো এবং ক্যামেরার মাধ্যমে যানবাহন শনাক্তকরণ সহজ করাও এ পরিবর্তনের অন্যতম উদ্দেশ্য।
গত ১ নভেম্বর বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয়েছে। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের উপসচিব আল-আমীন মো. নূরুল ইসলামের স্বাক্ষরে জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সংশোধিত বিধান অবিলম্বে কার্যকর হবে। সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর ১২২ ধারায় দেওয়া ক্ষমতাবলে সড়ক পরিবহন বিধিমালা, ২০২২-এর ৩৬ বিধিতে এ সংশোধনী আনা হয়েছে।
সংশোধিত বিধান অনুযায়ী, মোটরসাইকেলের সামনের রেজিস্ট্রেশন নম্বর প্রচলিত দুই লাইনের পাশাপাশি এক লাইনেও লেখার সুযোগ রাখা হয়েছে। মোটরসাইকেলের সামনের অংশের নকশা ও কাঠামো বিবেচনায় নম্বর প্রদর্শনের উপযুক্ত বিন্যাস বেছে নেওয়া যাবে। এ ছাড়া সামনের নম্বরপ্লেটের অক্ষরের উচ্চতা, জেলা বা অঞ্চলের নাম নির্দেশকারী অক্ষরের আকার এবং যানবাহনের শ্রেণি নির্দেশকারী অক্ষরের উচ্চতা নির্ধারণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষকে (বিআরটিএ)।
নম্বরপ্লেটের উল্লম্ব অংশে ফাঁকা জায়গার পরিমাণ, দুটি সংখ্যার মধ্যবর্তী দূরত্ব এবং দ্বিতীয় লাইনে সংখ্যাগুলোর মধ্যবর্তী হাইফেনের দৈর্ঘ্যও নির্ধারণ করতে পারবে বিআরটিএ। একই লাইনে রেজিস্ট্রেশন নম্বর লেখার ক্ষেত্রে জেলা বা অঞ্চলের নাম এবং যানবাহনের শ্রেণি নির্দেশকারী অক্ষরের পর নির্ধারিত দৈর্ঘ্যের হাইফেন ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে।
নম্বরপ্লেটের নকশা ও বিন্যাসের পাশাপাশি মোটরসাইকেলের সামনের রেজিস্ট্রেশন নম্বর প্রদর্শনে রেট্রো-রিফ্লেক্টিভ প্লেট ব্যবহারের বিষয়টিও সংশোধিত বিধিমালায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ ধরনের প্লেট আলো প্রতিফলিত করে বলে অন্ধকারেও নম্বরপ্লেটের দৃশ্যমানতা বাড়াতে সহায়তা করে। এ ছাড়া বিধিমালার ৩৬ নম্বর বিধির সংশ্লিষ্ট উপবিধিতে পরিবর্তন আনার পাশাপাশি উপবিধি (১০) থেকে ‘মোটরসাইকেল এবং’ শব্দ দুটি বাদ দেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে বাজারে বিভিন্ন মডেলের মোটরসাইকেলের সামনের অংশের নকশা ও কাঠামো এক রকম নয়। ফলে সব মোটরসাইকেলে একই মাপ ও বিন্যাসের নম্বরপ্লেট স্থাপন করতে গিয়ে অনেক ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হয়। বিশেষ করে আধুনিক নকশার কিছু মোটরসাইকেলে প্রচলিত আকারের নম্বরপ্লেট বসানো কঠিন হয়ে পড়ে। নতুন সংশোধনীর ফলে মোটরসাইকেলের নকশা ও কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সামনের নম্বরপ্লেটের আকার ও বিন্যাস নির্ধারণ করা সম্ভব হবে।
সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে অন্যান্য যানবাহনের পাশাপাশি মোটরসাইকেলকেও ক্যামেরার আওতায় আনা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এ ক্ষেত্রে সামনের নম্বরপ্লেটের মাধ্যমে যানবাহন শনাক্ত করা গুরুত্বপূর্ণ। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন শহরে সিসিটিভি ও স্বয়ংক্রিয় নম্বরপ্লেট শনাক্তকরণ প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট মানের নম্বরপ্লেট ভূমিকা রাখতে পারে।
সংশোধিত বিধিমালা কার্যকর হওয়ায় মোটরসাইকেলের সামনের নম্বরপ্লেটের নকশা ও বিন্যাস নির্ধারণে বিআরটিএর প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার বিধিগত ভিত্তি তৈরি হয়েছে। তবে কোন মডেলের মোটরসাইকেলে কী ধরনের নম্বরপ্লেট ব্যবহার করতে হবে, প্লেটের নির্দিষ্ট মাপ ও নকশা কেমন হবে এবং বাস্তবে কীভাবে সিদ্ধান্তটি কার্যকর করা হবে, তা বিআরটিএর পরবর্তী নির্দেশনার ওপর নির্ভর করবে। তাই নতুন নম্বরপ্লেট তৈরির ধরন ও বাস্তবায়ন পদ্ধতি সম্পর্কে কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা গুরুত্বপূর্ণ।



