একটি গয়না তৈরি করতে সাধারণত কয়েক দিন থেকে কয়েক মাস সময় লাগে। তবে ফড়িং আকৃতির একটি ব্রোচ তৈরি করতে লেগেছে দীর্ঘ ১০ বছর। আর এর আনুমানিক দাম প্রায় ১৫ কোটি রুপি, বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ১৯ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। ব্যতিক্রমী নকশা ও দীর্ঘ নির্মাণপ্রক্রিয়ার কারণে আলোচনায় এসেছে এই অলংকারটি। সম্প্রতি এটি পরে সবার নজর কেড়েছেন ভারতের ধনকুবের মুকেশ আম্বানির স্ত্রী নীতা আম্বানি।
‘সোয়ারিং স্পিরিট’ নামের ব্রোচটি তৈরি করেছেন বিশ্বখ্যাত অলংকারশিল্পী ওয়ালেস চ্যান। রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের পরিচালক এবং নীতা মুকেশ আম্বানি কালচারাল সেন্টারের প্রতিষ্ঠাতা নীতা আম্বানি সম্প্রতি ‘দ্য লাইব্রেরি’ নামের একটি সাংস্কৃতিক পরিসরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এটি পরে উপস্থিত হন।
ব্রোচটি তৈরিতে এত দীর্ঘ সময় লাগার কারণ এর জটিল নকশা, মূল্যবান রত্নের ব্যবহার এবং সূক্ষ্ম কারুকাজ। ফড়িংয়ের আদলে তৈরি এই অলংকারে রয়েছে ১৭ দশমিক ৬৭ ক্যারেটের তসাভোরাইট গারনেট, হলুদসহ বিভিন্ন রঙের হীরা, রুবি, গোলাপি স্যাফায়ার ও টাইটানিয়াম। এতগুলো মূল্যবান রত্নের সমন্বয়ে ফড়িংয়ের সূক্ষ্ম অবয়ব ফুটিয়ে তোলা ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। পাশাপাশি, টাইটানিয়ামের নমনীয় কাঠামো এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যাতে এটি পরিধানকারীর শরীরের নড়াচড়ার সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারে। এসব সূক্ষ্ম কাজ ও নকশার সমন্বয়েই দীর্ঘ ১০ বছরের সৃজনশীল প্রক্রিয়ায় তৈরি হয়েছে ব্রোচটি।
ওয়ালেস চ্যানের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, ব্রোচটির মূল অনুপ্রেরণা ফড়িং। তবে এটি কেবল একটি পতঙ্গের প্রতিকৃতি নয়; এর নকশায় রয়েছে গভীর প্রতীকী ভাবনা। ফড়িংয়ের ডানাকে অ্যাবাকাসের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে, যা গণনা ও পরিমাপের প্রতীক। শিল্পীর ভাবনায়, ফড়িং ডানা ঝাপটানোর প্রতিটি মুহূর্তে সময়, শক্তি ও চারপাশের পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রাখে। সেই ধারণা থেকেই অলংকারটিকে স্বপ্ন, স্বাধীনতা, রূপান্তর ও অসীম সম্ভাবনার প্রতীক হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বাজারমূল্যের হিসাব অনুযায়ী, ব্রোচটির দাম ১৫ লাখ থেকে ১৮ লাখ মার্কিন ডলার। ভারতীয় মুদ্রায় এর মূল্য প্রায় ১২ থেকে ১৫ কোটি রুপি।
অনুষ্ঠানে নীতা আম্বানির পরনে ছিল লেসের আভাসযুক্ত বেইজ রঙের প্যান্টস্যুট। খোলা চুলের সঙ্গে ব্যক্তিগত সংগ্রহের হীরার গয়নাও পরেছিলেন তিনি। তবে পুরো সাজের অন্যতম আকর্ষণ হয়ে ওঠে ১০ বছরের সাধনায় তৈরি সেই ড্রাগনফ্লাই ব্রোচ।
উল্লেখ্য, উদ্বোধন হওয়া ‘দ্য লাইব্রেরি’কে বই, আলোচনা, খাবার ও সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতার মিলনস্থল হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে। সেখানে ইংরেজি ও বিভিন্ন আঞ্চলিক ভাষার চার হাজার ৫০০টির বেশি বই রয়েছে। পাঠের পাশাপাশি আয়োজন করা হবে সৃজনশীল কর্মশালা, আলোচনা ও খাবারের নানা আয়োজন।
সূত্র: Indian Express



